Logo

পেকুয়ার ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার সেতু এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
পেকুয়া, কক্সবাজার
১১ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩২
পেকুয়ার ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার সেতু এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়
ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বারবাকিয়া-রাজাখালী সংযোগ নোয়াখালী সেতু।

বিজ্ঞাপন

সেতুটির মূল নির্মাণকাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজ। এখন দুই পাশের সংযোগ সড়কের কিছু কাজ বাকি থাকায় সেতুটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংযোগ সড়কের অবশিষ্ট কাজ শেষ হলেই যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নানা জটিলতায় মাঝপথে কয়েক দফা কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় দুই ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেত। সেতুর বিকল্প হিসেবে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হতো স্থানীয়দের। এতে রাজাখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটা অচল হয়ে পড়েছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের দাবি, নোয়াখালী সেতুটি চালু হলে শুধু বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের মানুষই নয়, মগনামা ইউনিয়ন এবং পাশের বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারাও সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যাতায়াতে সময় ও দুর্ভোগ দুটোই কমবে।

বিজ্ঞাপন

বারবাকিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে। এটি চালু হলে মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কমবে।

বারবাকিয়ার বাসিন্দা করিম বলেন, অনেক অপেক্ষা ও ভোগান্তির পর সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। এখন দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

সিএনজি চালক নাছির উদ্দিন বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় পাশের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে যানবাহন চালাতে হয়েছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। সেতুটি চালু হলে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ আর থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বারবাকিয়ার বাসিন্দা ইকবাল হোছাইন বলেন, বিভিন্ন কারণে সেতুটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এখন কাজ শেষ পর্যায়ে আসায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অল্প সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চালু করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজের মালিক কফিল বলেন, আগের ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ার পর নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে তারা কাজটি পেয়েছেন। সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। দুই পাশের সংযোগ সড়কের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD