ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ২০২৬ সালের ফলাফলে ভোলা জেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। জেলার ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৪ হাজার ১৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭ হাজার ৬২৫ জন।
বিজ্ঞাপন
ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি—দুই ক্ষেত্রেই ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার জেলার সার্বিক ফলাফলে কিছুটা অবনতি হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৪৫৯ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ১৫৬ জন। এ বছর ভোলা জেলায় মোট ৩৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ১৮৩ জন। ফলে উত্তীর্ণ ও জিপিএ-৫—উভয় সূচকেই মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে অনেকে সন্তোষ প্রকাশ করলেও জেলার সামগ্রিক পাসের হার নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানে হতাশাও দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জেলার সার্বিক ফলাফলের মধ্যে ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভোলা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ৯৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন জিপিএ-৫ এবং ৪৮ জন শিক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। এর আগেও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ১০৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মান আরও উন্নত করে ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ভোলা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার প্রথমবারের মতো নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন জিপিএ-৫ এবং ১৫ জন ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।
ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। বিদ্যালয়টির ২১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন শিক্ষার্থী।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির ৮১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৪ থেকে ৫-এর নিচে, ৪৬ জন জিপিএ ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর নিচে, ২৪ জন জিপিএ ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর নিচে এবং ১০ জন জিপিএ ২ থেকে ৩-এর নিচে পেয়েছে। এ ছাড়া ছয়জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভোলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এবারও এগিয়ে রয়েছে ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির ২৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৬২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
গত বছর বিদ্যালয়টির ৫৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ৭৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৪ পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও অভিনন্দন জানানো হয়। সাফল্যের আনন্দে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যান্ড বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম সালেউদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। তারা উচ্চশিক্ষায়ও ভালো ফল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ সাফল্য আশাব্যঞ্জক। তবে জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ হওয়ায় ফলাফল নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবার ফলাফলে অবনতির কারণ চিহ্নিত করে পিছিয়ে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








