Logo

কাপাসিয়ায় তিন মাদ্রাসায় দাখিলে শূন্য পাস

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১
কাপাসিয়ায় তিন মাদ্রাসায় দাখিলে শূন্য পাস
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, ইকুরিয়া সিরাজিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও পাঁচুয়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছে শূন্যজন। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন, ইকুরিয়া সিরাজিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন এবং পাঁচুয়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন শিক্ষার্থী এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিন প্রতিষ্ঠান থেকেই একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

অর্থাৎ, তিনটি মাদ্রাসার ৩০ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল করার ঘটনা যেমন উদ্বেগজনক, তেমনি তিনটি প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র দেখা দেওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে কাপাসিয়া উপজেলায় এবার মোট ১ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৫৪০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে উপজেলায় এবার দাখিল পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাপাসিয়ায় দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে তিনটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করায় ফলাফল নিয়ে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষকসংকট, পরীক্ষার প্রস্তুতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও একাডেমিক তদারকির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ৩০ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে এসব প্রতিষ্ঠানের আগের কয়েক বছরের ফলাফল, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিভাবকদের মতে, শুধু ফলাফল প্রকাশের পর কে পাস করল আর কে ফেল করল—এ হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। কোন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা বেশি দুর্বল, কেন তারা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি এবং প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয় চিহ্নিত করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ এবং শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে ভবিষ্যতে এমন ফলাফল এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD