Logo

গৃহবধু হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ- স্বামী পলাকত​

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩৩
গৃহবধু হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ- স্বামী পলাকত​
ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ময়না খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে গৃহবধুর মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। স্বামী শামীম সরকার ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রের জাল বুণছে বলে অভিযোগ করেন ভিক্টিমের পরিবার। ঘটনার পর থেকে নিহত এক সন্তানের জননী ময়না খাতুন এর স্বামী শামীম সরকার আত্মগোপনে রয়েছেন।​

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১২ আগষ্ঠ) সকাল ৭ টায় ঘটনাটি ঘটেছে তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা ঝুরঝুড়ি আমসারা গ্রামে। নিহত ময়না খাতুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কালিয়া দক্ষিন পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের একমাত্র কন্যা।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৩ বছর আগে শামীম সরকারের সাথে ময়না খাতুনের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা পারিবারিক বিষয় নিয়ে ময়নার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল স্বামী শামীম ও তার পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্বামী শামীম সরকার, শ্বশুর ও শাশুড়ি একজোট হয়ে ময়নাকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে নিহতের লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পুরো পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর লাশ ঝুলতে দেখে নিহতের পরিবার ও পুলিশে খবর দেয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

​কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের মা কহিনুর বেগম ও বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের মেয়ে কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। জামাই শামীম, তার মা-বাবা মিলে মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও ঘাতকদের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের দাবী জানাই।

কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম বলেন -মরদেহের সুরুত হালে দেখা যায়, নিহত ময়নার গলায় ছিল রক্তাক্ত জখম। ফাঁসিতে নিহত হলে গলার নিচ দিয়ে কালো দাগের চিহ্ন থাকবে কিন্তু গলায় কোন প্রকার কালো দাগ দেখা যায়নি

বিজ্ঞাপন

এবিষয়ে বিষয়ে নিহত ময়না খাতুনের খালু বলেন - জীবনে অনেক আত্মহত্যার মরদেহ দেখেছি রক্তাক্ত জখম দেখেনি। এতেই প্রতিয়মান হয় ময়না খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার করে আসল রহস্য ধামাচাঁপা দেয়ার অপকৌশল বটে। আমি সঠিক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে ভিক্ট্রিম ন্যায় বিচার পাবে বলে আশা করছি।

​এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD