Logo

সিরাজগঞ্জে জমজমাট আয়োজনে পুনরুজ্জীবিত ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৪৮
সিরাজগঞ্জে জমজমাট আয়োজনে পুনরুজ্জীবিত ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক সভ্যতার আড়ালে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সিরাজগঞ্জের বহুলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। ঢাক-ঢোলের বাজনা, কাঁসার ঝংকার আর লাঠিয়ালদের দুর্দান্ত কসরতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক।

বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে গ্রামবাংলার এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ার কৌশল দেখিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন অভিজ্ঞ লাঠিয়ালরা। লাঠির ঠনঠন শব্দ ও খেলোয়াড়দের ক্ষিপ্র কসরতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন দর্শকরা।

একসময় অবিভক্ত বাংলায় জমিদারদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত লাঠিয়ালরা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক উৎসবে নিজেদের সাহসিকতা ও কৌশল প্রদর্শন করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা আজ বিলুপ্তির পথে।

সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন নামে এ খেলার প্রচলন থাকলেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এর সঙ্গে জড়িত খেলোয়াড়দের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বংশপরম্পরায় ঐতিহ্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন লাঠিয়ালরা।

বিজ্ঞাপন

লাঠিয়ালদের দাবি, নিয়মিত লাঠি খেলার আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন মানুষের নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা হবে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী এ খেলার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আর্থিক সংকটও কিছুটা দূর হবে।

হারাতে বসা এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ডুমুর গোলামী গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে এ লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়। এতে আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন বহুলী ইউনিয়নের কৃতী সন্তান এস এম সোহেল মাহমুদ রঞ্জু।

খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এ ঐতিহ্য।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকরা বলেন, লাঠি খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নতুন লাঠিয়াল তৈরি করা গেলে এ খেলা আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কৃতি লালন ও মানুষকে নির্মল বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে লাঠি খেলাকে পরিচিত করতে নিয়মিত এমন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা ও আয়োজন অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দা, খেলোয়াড় ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের।

জেবি/আরএক্স/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD