মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাং আতঙ্ক, পুলিশের দাবি অপরাধীরা প্রাপ্তবয়স্ক

শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে দলবদ্ধ আড্ডা, মারামারি, ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। একের পর এক সহিংস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পৌরসভা প্রাঙ্গণে ছুরিকাঘাতে আইনজীবী সুজন নিহত হওয়ার পর থেকে শহরে একের পর এক সহিংসতার অভিযোগ উঠছে। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট চৌমহনা-কুসুমবাগ এলাকার ‘সুমা ফুড’-এর সামনে এক মাদ্রাসাছাত্রের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করে একটি চক্র। বিশেষ করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের ওয়াকওয়ে এলাকায় তাদের নিয়মিত আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্কুল ছুটির সময় ইভটিজিং, পথচারীদের হয়রানি, ছিনতাই ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তথাকথিত কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাং নামে পরিচিত একটি চক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা বলেন, সন্ধ্যার পর দোকানে হামলা বা ছিনতাইয়ের আতঙ্কে থাকতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করলেও পরে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনে বেরিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, অপরাধীদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলে হাইস্কুলে পড়ে। আতঙ্কের কারণে এখন তাকে একা বাসে পাঠাতেও ভয় হয়। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
বিজ্ঞাপন
এডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, মৌলভীবাজারে হাতে গোনা কিছু উচ্ছৃঙ্খল কিশোর পুরো শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থির করে রাখছে। তবে এদের পেছনে কোনো না কোনো শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী বা রাজনৈতিক চক্রের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করি। যারা পরিকল্পিতভাবে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়, তাদেরও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
তবে জেলা পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে জড়িতদের বয়স ২০ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। ফলে তাদের কিশোর গ্যাংয়ের আওতায় না ফেলে প্রাপ্তবয়স্ক সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় অভিযুক্তদের বয়স ২০ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। তারা কিশোর গ্যাংয়ের আইনের আওতায় পড়ে না। সাম্প্রতিক ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযোগ ও আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অপরাধীদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও অস্ত্রের উৎস চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে আবারও নিরাপদ ও শান্তির শহরে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা স্থানীয়দের।








