Logo

ধুনটের অলিগলিতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধুনট, বগুড়া
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩৭
ধুনটের অলিগলিতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দাপটে সন্ধ্যার পর যখন বগুড়ার ধুনট উপজেলার জনপদে নেমে আসে অন্ধকারের চাদর, ঠিক তখনই সেই অন্ধকার ভেদ করে অলিগলি মাতিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ‘আলোর ফেরিওয়ালারা’। অটোরিকশা কিংবা ভ্যানে সাজানো বাহারি বৈদ্যুতিক বাতি নিয়ে হাত মাইকে ভেসে আসছে অভিনব ডাক—‘কারেন্ট থাকলেও জ্বলে, না থাকলেও জ্বলে—মাত্র ১০০ টাকা।’

বিজ্ঞাপন

আলোর এই ডাক বিদ্যুৎহীন মানুষের মনে যেন মুহূর্তের জন্য আশার আলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মাইকের প্রচারণা শুনে কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন ফেরিওয়ালাদের চারপাশে। কেউ কেউ ১০০ টাকার বিনিময়ে কিনে নিচ্ছেন রঙ-বেরঙের এসব এসি/ডিসি বৈদ্যুতিক বাল্ব।

বিদ্যুতের অনিয়মিত আসা-যাওয়ার এই সময়ে ‘না থাকলেও জ্বলে’—এমন প্রতিশ্রুতিই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। তবে স্বস্তির আশায় কেনা এসব বাল্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অভিযোগ।

স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, বাহারি মোড়কে মোড়ানো ও আকর্ষণীয় প্রচারণায় বিক্রি হওয়া এসব বাল্বের অনেকগুলোই এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ১০০ টাকায় কেনা বাল্ব অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই নষ্ট হওয়ায় স্বস্তির আশায় কেনা আলোই পরিণত হচ্ছে হতাশার কারণ।

বিজ্ঞাপন

একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলেও ঘর আলোকিত থাকবে—এই আশায় বাল্বটি কিনেছিলাম। কিন্তু এক-দুই দিন পরই আলো নিভে গেল। এখন মনে হচ্ছে, ১০০ টাকার আলো নয়, আফসোসই কিনেছি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সংকটময় পরিস্থিতিকে পুঁজি করে ১০০ টাকার এসব বৈদ্যুতিক পণ্যের জমজমাট ব্যবসা চলছে। ‘কারেন্ট থাকলেও জ্বলে, না থাকলেও জ্বলে’—এমন আকর্ষণীয় প্রচারণায় ক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হলেও পণ্যের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিম্নমানের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় এক ইলেকট্রনিক্স মেকানিক বলেন, “এ ধরনের সস্তা পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব বাল্ব খুবই নিম্নমানের হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য ব্যবহারে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই সবার সচেতন হওয়া উচিত।”

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য বিক্রি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও পণ্য কেনার আগে এর মান, কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ধুনটের পথে পথে ‘আলোর ফেরিওয়ালাদের’ অভিনব উপস্থিতি যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি বিদ্যুতের অনিশ্চিত আসা-যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আলো বিক্রির এই ফেরিওয়ালারা হয়তো অন্ধকারে ক্ষণিকের স্বস্তি দিচ্ছেন; কিন্তু নিম্নমানের পণ্যের কারণে সেই স্বস্তির আলো যখন দুদিনেই নিভে যায়, তখন প্রশ্ন থেকেই যায়—সত্যিই কি আলো বিক্রি হচ্ছে, নাকি অন্ধকারের সুযোগে বিক্রি হচ্ছে মানুষের আশা?

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD