Logo

জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন, বগুড়ায় ফ্লাইহুইল সফল পরীক্ষা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বগুড়া
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৩৩
জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন, বগুড়ায় ফ্লাইহুইল সফল পরীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার পর এবার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রযুক্তিবিদদের দৃষ্টিতে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ফ্লাইহুইল নিজে কোনো জ্বালানি উৎস নয় এবং শূন্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে না। সাধারণত ফ্লাইহুইল যান্ত্রিক শক্তি সঞ্চয় ও তা পুনরায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে আরডিএর পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ কীভাবে ইনপুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নিট বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা হচ্ছে, তা পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কারিগরি যাচাইয়ের বিষয়।

পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় চালানো হলো পাম্প ও ওয়েল্ডিং মেশিন

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার এরুলিয়ার বামদিঘী এলাকায় পরীক্ষামূলক ফ্লাইহুইল বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনের সময় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রপাতি ও মোটর চালু করে কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়। এ সময় দুটি পাম্প ও একটি ওয়েল্ডিং মেশিন চালানোর মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা দেখানো হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় আরও কিছু যন্ত্রপাতি সংযোজন করা গেলে বর্তমান পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ব্যবস্থায় উন্নীত করা সম্ভব হবে।

২০০৪ সাল থেকে চলছে গবেষণা

বিজ্ঞাপন

আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক জানান, ২০০৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ২০১০ সালের পর গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে ফ্লাইহুইল নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি মোটর চালু করে বিভিন্ন কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়েছে।

১ মেগাওয়াট প্ল্যান্টে ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা

বিজ্ঞাপন

আরডিএর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। গবেষকদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালু হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রাখা সম্ভব হতে পারে।

ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ সার্বক্ষণিকভাবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে তুলনামূলক অনেক বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। ফ্লাইহুইল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সূর্যালোক বা আবহাওয়ার ওপর সরাসরি নির্ভরশীলতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে সৌরবিদ্যুতের সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রে শুধু স্থাপনা ব্যয় নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন দক্ষতা, ইনপুট শক্তি, সংরক্ষণক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় ও জলবায়ু ট্রাস্টে প্রকল্প প্রস্তাব

আরডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তাব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে প্রকল্পটি জলবায়ু ট্রাস্টেও জমা দেওয়া হয়েছে।

আরডিএর উপপরিচালক কৃষিবিদ ইঞ্জিনিয়ার ড. মনিরুল ইসলাম জানান, পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ব্যবস্থায় যেতে আরও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তারা এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন। গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের সংকটের কারণে কাজ কিছু সময়ের জন্য ধীরগতির হয়েছিল। পরে আরডিএর সহযোগিতায় আবারও গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তার দাবি, ২০২৫ সাল থেকে প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে প্রযুক্তিটিকে পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তিনি সরেজমিনে পুরো কার্যক্রম দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টরা মেশিন চালু করে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছেন। তার মতে, তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, উদ্যোগটি বড় পরিসরে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং স্বাধীন কারিগরি যাচাই নিশ্চিত করা গেলে বগুড়ার এই গবেষণা উদ্যোগ আরও বড় পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। সফল হলে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং বিকল্প শক্তি ব্যবস্থাপনায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দেশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD