Logo

কলকাতার হোটেলে আগুনে পরিবারসহ নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৫৪
কলকাতার হোটেলে আগুনে পরিবারসহ নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, শ্বশুর ও তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাসহ নয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে।

বিজ্ঞাপন

নিহত কুষ্টিয়ার চারজন হলেন—কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের তিন বছর বয়সী শিশু শর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার মো. আকরাম আলী (৬৪)।

দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, রাতে আগুন লাগার পর দ্রুত হোটেলের একাধিক কক্ষে তা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে হোটেলের ভেতর থেকে নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু থাকার কথা জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সংবাদ সংস্থা এএনআইর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগুনে নিহত নয়জনই বাংলাদেশি। চিকিৎসার জন্য তারা কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে ফায়ার সার্ভিসের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। কলকাতার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য তারা বেঙ্গালুরুও গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার দিন রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন তারা। বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই নিউমার্কেট এলাকার হোটেলে আগুনের ঘটনায় প্রাণ হারান পরিবারের সদস্যরা।

দেবাশীষের পরিবারের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়াজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। দেবাশীষ অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার এবং সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যু সাংবাদিক সমাজের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD