Logo

কাপাসিয়ায় নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৩৩
কাপাসিয়ায় নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর একটি ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুই দিনেও শিক্ষার্থীর সন্ধান না পাওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বীর উজলী এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বীর উজলী মডেল একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। পরে তার রক্তমাখা পোশাক, জুতা ও পরিচয়পত্র পাওয়া গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে দ্রুত অনন্তকে উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন টোক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রুকন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সবুর, লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মতিউর রহমান, বীর উজলী মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক বাবু সুনিল চন্দ্র দাস এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়ার ডুমদিয়া গ্রামের সোহাগ রানার ছেলে তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ৩। মঙ্গলবার টিফিনের সময় খাবার খাওয়ার জন্য শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয় সে। এরপর আর শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেনি।

অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও অনন্ত ফিরে না আসায় শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার খোঁজ শুরু করেন। পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, টিফিনের সময় শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার পর অনন্ত আর ফিরে আসেনি। বিষয়টি জানার পরপরই শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান শুরু করেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ বলেন, অনন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার রক্তমাখা জামা উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে এখন পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বীর উজলী বাজারের মফিজ উদ্দিনের একটি ভবনের তৃতীয় তলা থেকে অনন্তের রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম এসব আলামত উদ্ধার করেন।

বিজ্ঞাপন

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা সোহাগ রানা বলেন, তাঁর ছেলে বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনো ছেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলেকে উদ্ধারের জন্য তিনি কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন।

টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অনন্ত নামে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে রক্তমাখা জামা, জুতা ও পরিচয়পত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিখোঁজের বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। এসব আলামতে রক্তের দাগ কীভাবে এলো, অনন্ত কোথায় রয়েছে এবং তার সঙ্গে কী ঘটেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

অনন্তকে উদ্ধারে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়রাও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীর সন্ধান না পাওয়ায় বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD