তালতলীতে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভা ঘিরে অস্ত্রসহ আটক ৫

বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সভা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে পুলিশের পৃথক অভিযানে বিদেশি অস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি ও একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তালতলী শহরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে বিদেশি অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে পৃথক অভিযানে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বসতবাড়ি থেকে একটি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিটন সিকদারের ছেলে লিমন সিকদার (২৮), কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫), বরগুনার কেওড়াবুনিয়ার শাহআলমের ছেলে মো. জামাল (২৭), নড়াইলের লোহাগড়া এলাকার আনোয়ার খানের ছেলে জিহাদ খান (৩৫) এবং বরগুনার কেওড়াবুনিয়ার মোসলেম মোল্লার ছেলে হৃদয় মোল্লা (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিজ্ঞাপন
এরই ধারাবাহিকতায় নজরুল ইসলাম মোল্লার অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন এবং সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের পক্ষ বুধবার পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে গাবতলী এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি বন্ধের নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বাড়ি থেকে একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। পরপর দুই স্থানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তালতলী শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কয়েক দিন ধরে তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের হুমকি দিয়ে আসছে। তাঁর দাবি, বুধবারের সমাবেশে হামলার উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে লোকজন আনা হয়েছিল। তাঁদেরই কয়েকজন পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। তবে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
তালতলী থানার ওসি তদন্ত শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে, ওই এলাকায় কয়েকজন অস্ত্রসহ অবস্থান করছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাঁচজনকে অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় উদ্ঘাটনের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালতলী থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, পৃথক দুটি স্থান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপির দুই পক্ষকেই সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গুলোর উৎস এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।







