Logo

সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৪ জনের মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার-সহকর্মীরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
২০ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৪২
সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৪ জনের মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার-সহকর্মীরা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও সহকর্মীরা। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও মা স্বপ্না দত্ত।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভারতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে দেবাশীষ, তার স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্বশুরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে সেখানে উপস্থিত হন আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনরা।

দেবাশীষের আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত এখনো পুরো ঘটনা বুঝে উঠতে পারেনি। তার বাবা-মা ও ছোট ভাই আর ফিরবেন না—এই বাস্তবতা তার কাছে স্পষ্ট হয়নি। বাড়ির দ্বিতীয় তলার বারান্দায় প্রতিদিনের মতোই খেলছিল সে। বাবা আদর করে তাকে ‘পাখি’ নামে ডাকতেন।

বিজ্ঞাপন

দেবাশীষের সহকর্মী স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, ভারতে থাকা কুষ্টিয়ার বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দীর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

মরদেহ শনাক্তকরণ এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ও কাগজপত্র কলকাতার নিউ মার্কেট থানায় পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর মরদেহ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর দেবাশীষসহ পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

একই পরিবারের চারজন নিহত

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে ৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন ছিলেন।

তারা হলেন—কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন দেবাশীষ। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা। মঙ্গলবার দিনভর আত্মীয়-স্বজনের জন্য কেনাকাটা করেন। পরদিন বুধবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তার আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান একই পরিবারের চারজন।

এখন ভারতে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কুষ্টিয়ায় থাকা স্বজন ও সহকর্মীরা। তাদের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত যেন প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানো যায়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD