Logo

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিরভাগ ঘরই পড়ে আছে তালাবদ্ধ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫৮
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিরভাগ ঘরই পড়ে আছে তালাবদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪২টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৫০ থেকে ৫৫টি ঘরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বাসিন্দারা। বাকি অধিকাংশ ঘরই দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ৮ দশমিক ৯ একর খাসজমিতে নির্মিত এ প্রকল্পটি ঢাকা বিভাগের বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালে ভূমিহীন, গৃহহীন, বিধবা, প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, দিনমজুর ও বয়স্কসহ অসহায় ১৪২টি পরিবারকে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। দুটি শয়নকক্ষ, বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেটের পাশাপাশি প্রকল্পে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, পুকুর, মসজিদ, স্কুল কাম অধ্যয়ন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, কবরস্থান, সড়ক ও সোলার স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের সারি সারি ঘরের অনেকগুলোর দরজায় তালা ঝুলছে। কোথাও ঘরের সামনে আগাছা ও লতাপাতা জন্মেছে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন বসবাসের কোনো চিহ্ন নেই।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সঠিকভাবে যাচাই না করে বরাদ্দ দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের বাসিন্দা আমেনা বেগম জানান, পাশের একটি ঘর দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকায় সেখানে আগাছা ও ময়লা জমে থাকত। পরে ওই ঘরের বরাদ্দ পাওয়া নারীর অনুমতি নিয়ে সেখানে নিজের সন্তানদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আমেনার দাবি, যার নামে ঘরটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তার নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং তিনি স্বাবলম্বী। এ ধরনের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা সালমা বেগম প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার ভাষ্য, প্রকল্প থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত করলে বেতনের বড় অংশই পরিবহন খরচে চলে যাবে। তাই তিনি কর্মস্থলের কাছে ভাড়া বাসায় থাকেন এবং মাঝে মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এসে দেখভাল করেন।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালে ঘর পাওয়া আজিজুল হক স্ত্রী, দুই সন্তান ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্তমানে সংকীর্ণ জায়গায় বসবাস করছেন। বড় ছেলে জায়গার সংকটে প্রকল্পের বাইরে ভাড়া বাসায় থাকেন।

আজিজুলের দাবি, খালি পড়ে থাকা ঘরগুলো পুনর্বণ্টন করে বড় পরিবারগুলোর বসবাসের ব্যবস্থা করা হোক।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক নছুমউদ্দিন বলেন, ১৪২টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করে। অনেকেই ঘর বুঝে নেওয়ার পর আর আসেননি। কেউ কেউ দুই-তিন মাস পরপর এসে ঘর দেখভাল করেন ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিয়ে চলে যান।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ঘর খালি থাকায় অনেকের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়েছে এবং কিছু ঘরের মিটার খুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি ঘর থেকে পানির মোটর ও জানালা চুরির ঘটনাও ঘটেছে। তার দাবি, যারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে ঘরগুলো পুনর্বণ্টন করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঞা জানান, কাজের প্রয়োজনে অনেক বাসিন্দা অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। নিয়মিত কর্মসংস্থান করতে না পারাসহ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD