কুলাউড়া হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংকটে রোগীদের ভরসা মোবাইলের টর্চ

বিদ্যুৎ চলে গেলেই অন্ধকারে ডুবে যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে রোগী ও স্বজনদের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে আলো দিতে হয়। গরমের সময় অসুস্থ রোগীদের স্বস্তি দিতে স্বজনদের হাতে তুলে নিতে হয় হাতপাখা। অথচ বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের পুরোনো জেনারেটরটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। শিশু, বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী রোগী এখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালটিতে রয়েছে আইসোলেশন ইউনিটও। বিদ্যুৎ চলে গেলে এসব রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এক রোগীর স্বজন বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। মোবাইলের টর্চ দিয়ে আলো দিতে হয়। আবার গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। হাসপাতালে একটি কার্যকর বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকা খুবই প্রয়োজন।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা পুরোনো জেনারেটরটি মেরামত করে পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে পুরো হাসপাতালের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর মতো কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাকআপ ব্যবস্থাও নেই। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আলো ও বাতাসের সংকট তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে এগিয়ে এসেছে সাংবাদিকদের সংগঠন টিম জার্নালিস্টস কুলাউড়া। সংগঠনটির উদ্যোগে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ১০টি ব্যাকআপ লাইট স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এসব লাইটের আলোয় আপাতত কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা।
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “লাইট দেওয়ার উদ্যোগটি ভালো হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্তত অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে না। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। হাসপাতালের নিজস্ব নতুন জেনারেটর অথবা স্থায়ী ব্যাকআপ ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
বিজ্ঞাপন
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎফল দাশ বলেন, “হাসপাতালের পুরোনো জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। এটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব নয়। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ ব্যাকআপের এমন সংকট রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবাকে ব্যাহত করছে। তাঁদের দাবি, সাময়িক লাইটের পাশাপাশি দ্রুত নতুন জেনারেটর অথবা আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও রোগীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।








