চট্টগ্রামে উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগির এটি উদ্বোধন করে নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দর এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।
চসিক মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নিরাপদ ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কে সাইকেল চলাচলের জন্য পৃথক ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে।
চসিকের ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়কটি উন্নয়ন করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের পাশাপাশি মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে সাইকেল ট্র্যাক রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মেয়র জানান, পৃথক সাইকেল লেন থাকায় আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় জীবনযাপনের প্রবণতাও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে বিমানবন্দর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা শুধু যান চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, নগরের ভাবমূর্তি ও পর্যটনের সঙ্গেও এর যোগসূত্র রয়েছে।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বিমানবন্দর সড়ক ও সমুদ্রসৈকত এলাকায় নিরাপদ সাইকেল চলাচলের সুযোগ তৈরি হলে পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে সাইকেলভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক নগর অবকাঠামো প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ সড়ক ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মেয়রের ভাষ্য, আধুনিক নগর গড়তে শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো, সবুজায়ন ও নান্দনিক পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। বিমানবন্দর সড়কের সাইকেল ট্র্যাককে সেই পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন মেয়র।
পরিদর্শনকালে চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








