Logo

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩৫
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নগরবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) এলাকার গোলচত্বরে চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস ও ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার করা এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে কয়েক দিন ধরে জ্বর থাকলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি এডিস মশার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া ও জিকাসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব। চসিকের চলমান কার্যক্রমেও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ ও বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। র‍্যাশ, রক্তপাত বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ব্যবস্থা এবং চসিকের মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সেন্টার চালুর কথা জানান তিনি। সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান মেয়র। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামও পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমছে কি না, তা নিয়মিত দেখতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

চসিকের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পরিস্থিতি অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিটিআই ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারক করছেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও জানান মেয়র। তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; সম্মিলিতভাবে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD