নরসিংদীতে পেট্রোল ঢেলে আগুন, পাঁচ দিন পর রাব্বির মৃত্যু

নরসিংদীতে লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির (৩০) শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পাঁচ দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের বাবা মনির হোসেন ও নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারকে (৬০) গ্রেপ্তার করে। পরে গাবতলী এলাকা থেকে কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস (৩০) নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন, তানভীর আহমেদ রাব্বি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মারা গেছেন। ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকায় একটি লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন।
অভিযোগ রয়েছে, মদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দোকানের কাউন্টারে থাকা কর্মচারী রাব্বির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
সেখানে আইসিইউতে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। রাব্বির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাব্বির মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের নাম উল্লেখ করে আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।








