Logo

মানুষের পাশে প্রশাসন, মাঠে ছুটে চলেছেন তারাগঞ্জের ইউএনও

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
তারাগঞ্জ, রংপুর
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:০৯
মানুষের পাশে প্রশাসন, মাঠে ছুটে চলেছেন তারাগঞ্জের ইউএনও
ছবি: সংগৃহীত

একজন কৃষকের কাছে ফসল মানে পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকার নিশ্চয়তা। একজন শিক্ষার্থীর কাছে একটি ফুটবল হতে পারে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ। আর বিপদে পড়া কোনো মানুষের কাছে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার পাশে দাঁড়ানো হয়ে উঠতে পারে সাহস ও ভরসার উৎস।

বিজ্ঞাপন

মানুষের এসব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেন। কৃষকদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার্থী ও তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে মানুষের কাছাকাছি নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে প্রতিদিন জমা পড়ে নানা আবেদন, অভিযোগ ও সরকারি নথি। তবে কাগজে লেখা তথ্যের বাইরে মানুষের সমস্যার বাস্তব চিত্র জানতে মাঠপর্যায়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন এলাকার সমস্যা ও জনদুর্ভোগ সরেজমিনে দেখার চেষ্টা করছেন ইউএনও মোনাব্বর হোসেন।

কৃষকের চাষাবাদের সমস্যা, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন, বাজারের অনিয়ম কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ—বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের খোঁজখবর নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি মানুষের কাছে গেলে নিজেদের সমস্যা ও চাহিদার কথা জানানোর সুযোগ তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে। দুর্ঘটনার খবর পেলে ঘটনাস্থল বা হাসপাতালে ছুটে যাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো উদ্যোগ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন স্কুলের শিক্ষার্থী বেনজিরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান ইউএনও মোনাব্বর হোসেন। আহত শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে।

তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ক্ষুদে ফুটবলারদের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর কার্যালয়ে শিক্ষার্থী ও ক্ষুদে খেলোয়াড়দের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করা এবং তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগত চেতনা গড়ে তোলা।

‘মাদককে না বলুন, খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলুন’—এমন বার্তা নিয়ে তারাগঞ্জে আয়োজন করা হয়েছে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট। বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে এ ধরনের প্রতিযোগিতা তরুণদের মাঠমুখী করার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

ইউএনও মোনাব্বর হোসেনের মতে, তরুণদের বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগও প্রয়োজন। এসব কার্যক্রম তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তারাগঞ্জের বহু পরিবারের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকের উৎপাদন ভালো হলে তার সুফল পড়ে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। এ কারণে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

উন্নত জাতের বীজ ও সার বিতরণের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য মৌসুমের উপযুক্ত সময়ে এসব উপকরণ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময়মতো বীজ ও সার না পেলে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে যেতে পারে।

সরকারি সহায়তা কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার এসব কার্যক্রমকে স্থানীয় কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মাদকের প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজ পর্যন্ত বিস্তৃত। তাই শুধু আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং ক্রীড়া সংগঠকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে। ফুটবল টুর্নামেন্ট, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং সভা-আলোচনার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও স্থানীয় পর্যায়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় মানুষের কাছে প্রশাসনের উদ্যোগের গুরুত্ব শুধু কর্মসূচির সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং এসব কার্যক্রম তাদের জীবনে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারছে, সেটিই বড় বিষয়।

প্রত্যন্ত এলাকার কোনো শিশুর হাতে ক্রীড়া সামগ্রী পৌঁছানো, কৃষকের প্রয়োজনের সময়ে বীজ ও সার পাওয়া কিংবা দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর পাশে প্রশাসনের কর্মকর্তার উপস্থিতি—এমন ছোট ছোট উদ্যোগ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করতে পারে।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, জনসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও বাজার তদারকিসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসব দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখাও জনবান্ধব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিজ্ঞাপন

তারাগঞ্জের স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, মাঠপর্যায়ে মানুষের সমস্যা শোনা ও সমাধানের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা, কৃষি, ক্রীড়া, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রশাসনের মূল কাজ সরকারি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর সেই সেবা যখন মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়, তখন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তারাগঞ্জে ইউএনও মো. মোনাব্বর হোসেনের বিভিন্ন উদ্যোগে সেই জনসম্পৃক্ত প্রশাসনের একটি চিত্র ফুটে উঠছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD