জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত জয়পুরহাটের সাইফুল ইসলাম

বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ‘গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া-২০২৬’-এ জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন জয়পুরহাট সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সাইফুল ইসলামের হাতে জাতীয় সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিনির্ভর ও সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং a2i-এর অধীনে দেশের ৪১ জন ‘মডেল কনটেন্ট ডেভেলপার’-এর একজন।
একক ও দলগতভাবে তাঁর তৈরি ৯৫৪টি মডেল কনটেন্ট দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পাঠ্যসহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
করোনা মহামারির সময়ও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে ভূমিকা রাখেন তিনি। ওই সময়ে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে মাধ্যমিক পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের জাতীয় পর্যায়ের স্ক্রিপ্ট রাইটার ও টিভি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া ইসলাম শিক্ষা ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের জেলা পর্যায়ের মাস্টার ট্রেইনার এবং ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেও একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন সাইফুল ইসলাম। উপজেলা পর্যায়ে পাঁচবার এবং জেলা পর্যায়ে তিনবার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে জাতীয় মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতায় সেরা ১০ জনের একজন হয়ে ল্যাপটপ পুরস্কারও অর্জন করেন।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া আমার শিক্ষকতা জীবনের এক অনন্য ও গৌরবময় অর্জন। এ সম্মান আমাকে গভীরভাবে আনন্দিত, আবেগাপ্লুত ও কৃতজ্ঞ করেছে। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয় পরিবারের আন্তরিক সমর্থনই আমার পথচলার প্রধান প্রেরণা।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না—তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখান, মূল্যবোধ গড়ে তোলেন এবং আলোকিত ভবিষ্যতের পথ দেখান। এই অর্জন আমি আমার বিদ্যালয়, প্রিয় শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি উৎসর্গ করছি।
সাইফুল ইসলামের জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতিতে জয়পুরহাটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাঁর এই অর্জন ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি জেলার শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও গৌরবের।








