টিপসই নিয়ে সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন ছেলে, আদালতে শতবর্ষী মা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি নিয়ে মামলা চলছে—এমন কথা বলে বাবা-মায়ের টিপসই নেওয়ার পর প্রায় ১২ বিঘা কৃষিজমি, আমবাগান ও বসতভিটাসহ পারিবারিক সম্পত্তি বড় ছেলে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সম্পত্তির অধিকার ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ১০০ বছর বয়সী রহিমা খাতুন ওরফে মনোয়ারা রেফুল।
বিজ্ঞাপন
শতবর্ষী রহিমা খাতুন ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। বর্তমানে ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। তার অভিযোগ, জমি নিয়ে মামলা চলছে বলে তাকে ও তার স্বামীকে বুঝিয়ে টিপসই নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে তাদের সম্পত্তি বড় ছেলে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
অভিযুক্ত মো. মুখতারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার।
রহিমা খাতুনের অভিযোগ, সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পর পৈতৃক বসতভিটা থেকে তাকে ও ছোট ছেলে ইসমাইলকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। জীবনের শেষ সময়ে বসতভিটা ও সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রহিমা খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়া গ্রামের মৃত এসলাম হোসেনের স্ত্রী। গত ৩১ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ছেলে মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মুখতারুজ্জামান তার বাবাকে ভুল তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান এবং টিপসইয়ের মাধ্যমে জমি নিজের নামে নেন। পরে একইভাবে মায়ের কাছ থেকেও টিপসই নেওয়া হয়। ‘জমি নিয়ে মামলা চলছে’—এমন কথা বলে বাবা-মায়ের কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, ওই টিপসই ব্যবহার করে তাদের সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।
রহিমা খাতুনের দাবি, তিনি কাউকে নিজের সম্পত্তি লিখে দেননি।
বিজ্ঞাপন
শতবর্ষী এই নারী জানান, বর্তমানে ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন তার দেখাশোনা করেন। পৈতৃক বাড়িটির টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে পড়ে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। কাঠের অংশেও ঘুন ধরেছে। ঘরটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মুখতারুজ্জামান তাতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রহিমা খাতুনের ভাষ্য, সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পর তাকে ও ছোট ছেলে ইসমাইলকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিশ হয়েছে। এ ছাড়া থানায় অভিযোগ এবং জেলা লিগ্যাল এইডেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। তবে কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন রহিমা খাতুন।
ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, তাদের বাবা-মায়ের প্রায় ১২ বিঘা ধান ও আমের জমি এবং বসতভিটা রয়েছে। এসব সম্পত্তি বড় ভাই মুখতারুজ্জামানের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, মায়ের দেখাশোনা তিনিই করেন। অথচ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া বাড়িটি মেরামত করতেও তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের অন্য দুই সদস্য আলিম হোসেন ও খাইরুল হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, সাত ভাই-বোনের মধ্যে ছয়জনই সম্পত্তির অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মুখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাত ৯টা পর্যন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়ার পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন রহিমা খাতুন। সম্পত্তি নিয়ে করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।








