Logo

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনার পর ২২ শিশুর ইনফেকশন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪০
সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনার পর ২২ শিশুর ইনফেকশন
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা কর্মসূচির কয়েক দিন পর বেশ কয়েকজন শিশুর শরীরে ইনফেকশনসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিকেল টিম দ্বীপে গিয়ে শিশুদের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে তারা সেন্টমার্টিনের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পৌঁছে খতনা করা শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

মেডিকেল টিমের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে তারা ভালো আছে।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, খতনা করার পর শিশুদের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও ইনফেকশনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাতও হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা শিশুদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিনের অবকাশ রিসোর্টে আল-মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ ও শিশুদের সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শায়খ মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মেডিকেল টিম কর্মসূচিতে অংশ নেয়। খতনা করা শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে মেডিকেল টিমটি সেন্টমার্টিনে যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মেডিকেল টিমের প্রধান ডা. নওশাদ আলম কানন জানান, কয়েকজন শিশুর ইনফেকশনের খবর পাওয়ার পর তারা দ্বীপে যান। সেখানে ১২০ শিশুকে পরীক্ষা করা হয় এবং ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ না খাওয়ানো, সময়মতো ড্রেসিং না করা এবং সংশ্লিষ্টদের অসচেতনতার কারণে এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। দুর্গম এলাকায় শিশুদের এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রেসক্রিপশন ও পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. নওশাদ আরও জানান, বর্তমানে অসুস্থ শিশুদের অন্য কোথাও স্থানান্তরের প্রয়োজন নেই। সেন্টমার্টিনেই তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তারা শিশুদের পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইউএনও জানান, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা বর্তমানে ভালো আছে। নিয়ম মেনে চিকিৎসা ও ড্রেসিং করা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিমের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সময়মতো ড্রেসিং না করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না দেওয়ার কারণেও শিশুদের মধ্যে ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম দ্বীপ এলাকায় এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে খতনার পর শিশুদের ওষুধ সেবন, ক্ষতস্থানের ড্রেসিং এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD