ভাই পরিচয়ে বাসায় যাতায়াত, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আটক যুবক

প্রায় ১৫ বছর আগে ভৈরবের এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয় ইতালিপ্রবাসীর। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান। সন্তান জন্মের কিছুদিন পর পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইতালি পাড়ি জমান স্বামী।
বিজ্ঞাপন
স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে স্ত্রী একাধিক যুবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্বামী জানান, প্রবাসে গিয়ে তার সুখের সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভৈরব শহরের আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বাসা থেকে মোবারক হোসেন নয়ন নামে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবারক হোসেন নয়ন কালিকাপ্রসাদ এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি। মাদক মামলায় গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ কারাগারে সে একাধিকবার জেল খেটেছে। তার বিরুদ্ধে ভৈরবসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে রাত ১১টার দিকে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন ও শক্তিপদ মৃধার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নয়ন ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের রক্ষা করতে গিয়ে এক নারী পুলিশ সদস্যসহ পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসীর বাবা অভিযোগ করেন, তার পুত্রবধূ প্রায়ই আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে অপরিচিত যুবকদের বাড়িতে নিয়ে আসত। জানতে চাইলে সবসময় তাদের আত্মীয় বলে দাবি করত। বৃহস্পতিবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী নয়নকে তার মামাতো ভাই সাজিয়ে বাসায় নিয়ে এলে হাতেনাতে ধরা পড়ে।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত প্রবাসীর স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আমরা সবাই একসঙ্গে একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলাম। রাতে আমার ভাই নয়ন মোটরসাইকেলে করে আমাকে কালিকাপ্রসাদ থেকে বাসায় পৌঁছে দেয়। তখন আমি তাকে ঘরে এসে এক কাপ চা খেয়ে যেতে বলি। নয়ন ঘরে আসার পরপরই এক যুবক এসে তাকে চড়থাপ্পড় মারে। এরপর কিছু লোক বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে আমাদের আটকে রাখে।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন নয়ন দাবি করেন, আমরা কটিয়াদীতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িও ছিলেন। সেখান থেকে আপাকে মোটরসাইকেলে নামিয়ে দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু লোক আমাকে আটক করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও দাবি করেন, আমি কালিকাপ্রসাদ চকবাজারে ইন্টারনেটের ব্যবসা করি। আমি মাদকের সঙ্গে জড়িত নই, আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই।
বিজ্ঞাপন
ওই প্রবাসী ইতালি থেকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত। ভিডিও কলে তাকে তালাক দিয়ে কথিত প্রেমিককে বিয়ের হুমকিও দেওয়া হতো। এর আগেও এক যুবকের সঙ্গে ঘোড়ারগাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর ছবি তার নজরে এসেছে। এসবের প্রতিবাদ করলে তাকে মোবাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো। তিনি এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তাঁরা জানতে পারেন, আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়ার সন্দেহে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে রেখেছেন। সেখানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা গণপিটুনির পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।








