চট্টগ্রামে আট দফা দাবিতে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সমাবেশ

চট্টগ্রামে আট দফা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা চট্টগ্রাম জেলা শাখা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরের ঐতিহাসিক বিপ্লব উদ্যানের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে সংগঠনের সদস্য ফাহাদ উদ্দিন, জুনায়েদ আউওয়াল ও সাজ্জাদ ইহসান বক্তব্য দেন। বক্তারা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা উল্লেখ করে তাঁদের আট দফা দাবি তুলে ধরেন।
ধর্মীয় অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি
সংগঠনটির প্রথম দাবিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও আহলে বাইতের অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
হকার উচ্ছেদ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের বিরোধিতা
দ্বিতীয় দাবিতে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদ এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা দাবি করেন, এসব কার্যক্রমের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। এতে তাঁদের পরিবার পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠবে এবং বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
দুর্গাপূজা আয়োজন নিয়ে কয়েকটি দাবি
তৃতীয় দাবিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, পূজার কারণে সড়ক চলাচল বন্ধ না করা, প্রতিমা বিসর্জনের সময় পরিবেশদূষণ রোধ করা এবং সরকারি ত্রাণ তহবিলের অর্থ পূজামণ্ডপে চাল বিতরণের কাজে ব্যয় না করা।
এ ছাড়া ভারতে মুসলমানদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুযোগ-সুবিধার তুলনা করে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানোর বিরোধিতাও করেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
চতুর্থ দাবিতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে কুকুর নিধনের পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী, রংপুরের মিঠাপুকুর ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কুকুরের কামড়ে একাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবি, বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে মানুষের জানমালের ক্ষতি ঠেকাতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে বক্তারা জানান, তাঁদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। সংগঠনটির বাকি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন চুক্তি ও অধ্যাদেশ বাতিল, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন, পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক স্লোগান নিষিদ্ধ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালসংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের দাবি।
চুক্তি ও অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি
সমাবেশের পঞ্চম দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা বিভিন্ন চুক্তি ও ১৩৩টি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানায় সংগঠনটি। ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তিসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি পর্যালোচনার আহ্বান জানান বক্তারা।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটির দাবির মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, দেশটি থেকে গম ও সয়াবিন তেল কেনা বন্ধ, মার্কিন প্রতিষ্ঠান গানভরের কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার চুক্তি বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান ও ফ্রান্স থেকে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি বাতিল করা।
এ ছাড়া এসব চুক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দাবি
বিজ্ঞাপন
ষষ্ঠ দাবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানায় সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, কবির ছবিতে কালি মাখানোর ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাঁদের মুক্তির আহ্বান জানান বক্তারা।
একই দাবির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের প্রস্তাবও তুলে ধরে সংগঠনটি। বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সংগীত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সেটি বাদ দেওয়ার দাবি করেন।
পরিবার পরিকল্পনার স্লোগান নিষিদ্ধের দাবি
বিজ্ঞাপন
সপ্তম দাবিতে ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ স্লোগানটি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। বক্তারা এ স্লোগানের ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, অধিক সন্তান জন্মদানের বিষয়ে ইসলামী শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তাঁরা পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক প্রচারণার সমালোচনা করে দাবি করেন, এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে বিদেশি প্রভাব রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তারা ১৯৭৪ সালে প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রের একটি জনসংখ্যাবিষয়ক নীতিপত্রের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালসংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের দাবি
বিজ্ঞাপন
সমাবেশের অষ্টম দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, চুক্তির শর্তাবলি জনসমক্ষে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি এবং টার্মিনালের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাদের দাবি, বিদেশি প্রতিষ্ঠানটিকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে চুক্তির আর্থিক শর্ত, বিনিয়োগ এবং পরিচালনাগত অধিকার নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বক্তারা দাবি করেন, টার্মিনালটির অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ও ফি-সংক্রান্ত শর্তও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, চুক্তির ফলে টার্মিনালের রাজস্ব, পণ্য পরীক্ষা এবং বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ কারণে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থ বিবেচনায় তা বাতিলের দাবি জানায় তারা।
আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ শেষ করেন ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার নেতারা।








