Logo

কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতি নিখোঁজ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
যশোর
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:৪১
কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতি নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের মণিরামপুরের এক দম্পতি ও তাঁদের দুই শিশুকন্যা। রিসোর্টের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হওয়া চারজনের দগ্ধ মরদেহ তাঁদের হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা। তবে ডিএনএ পরীক্ষাসহ আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন। কক্সবাজারে পারিবারিক ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে তাঁর বাবাকে জানিয়েছিলেন।

তুহিনের চাচাতো ভাই ও মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন জানান, শুক্রবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন তুহিন। দুই দিন অবস্থানের পর রোববার তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।

বিজ্ঞাপন

রিয়াজ উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে তুহিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর স্বজনেরা তানজির মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁদের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান রিসোর্ট এলাকায় দেখাচ্ছিল বলে জানান রিয়াজ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও তুহিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের শৌচাগার থেকে পরস্পরকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। মরদেহগুলো তুহিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হতে পারে—এমন আশঙ্কায় পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, শনিবার থেকে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। রোববার সকালে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

প্রিন্স বলেন, তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে বেঁচে আছেন কি না, তা তাঁরা নিশ্চিত নন। কক্সবাজারে পৌঁছালে প্রকৃত অবস্থা জানতে পারবেন।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, কক্সবাজারের রিসোর্টে যে কক্ষে এক দম্পতি ও দুই শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে, মণিরামপুরের ওই দম্পতি ও তাঁদের দুই মেয়ে সেই কক্ষেই ছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে ১০ জন নিহত হন। তাঁদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আগুনে মরদেহগুলোর চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। তবে কোন মরদেহ কার, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন নারী, একজন শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের পরিচয়ও এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD