বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদা আদায়

দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় যাতায়াতের প্রধান সড়ক বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক। তবে এ সড়কে বিভিন্ন স্থানে পৌর ও সিটি টোলের নামে যানবাহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ বাড়ছে পর্যটক, পরিবহনচালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, এ অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে যাত্রীভাড়ার ওপরও।
বিজ্ঞাপন
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিবছর বহু পর্যটক পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ভিড় করেন। বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক ধরে এসব পর্যটকসহ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁদের অভিযোগ, সড়কটি তুলনামূলক সরু হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে টোল আদায়ের কারণে যাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
সরেজমিন ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর রূপাতলী, পটুয়াখালী, আমতলী, কলাপাড়া ও কুয়াকাটায় বিভিন্ন নামে যানবাহন থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ৫০ টাকা, পটুয়াখালী বাস টার্মিনালে ১০০ টাকা, আমতলী পৌর এলাকায় ১০০ টাকা, কলাপাড়ায় ৫০ টাকা এবং কুয়াকাটায় ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব স্থানের সব আদায়ের ধরন ও বৈধতা সম্পর্কে পৃথকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবহনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গাড়িতে যাত্রী থাকুক বা না থাকুক, এমনকি সংশ্লিষ্ট বাস টার্মিনাল ব্যবহার না করলেও নির্দিষ্ট স্থানে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটকে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কোথাও রসিদ দেওয়া হলেও তাতে কখনো স্বাক্ষর থাকে, আবার কখনো স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা আদায় করা হয়। এ সময় চালক ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ দিতে হওয়ায় তাঁদের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে যাত্রীভাড়ায়, যার কারণে কুয়াকাটাগামী পর্যটকদেরও বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী পরিবহনগুলো দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশের পথে গৌরনদী পৌর এলাকার ওপর দিয়ে চলাচল করে। সেখানে বাস টার্মিনাল থাকলেও মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন থেকে পৌর টোল নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন থেকে পৌর টোল আদায়ের সুযোগ নেই। এটি অন্যায়। উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকার ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও সেখানে এ ধরনের টোল দিতে হয় না বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা বলেন, পৌর টোলের নামে যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তা কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে এভাবে টোল আদায়ের বৈধতা আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।
গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, গত ২২ অক্টোবর প্রেসক্লাবের ফ্যামিলি ডে উপলক্ষে সদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকজনকে নিয়ে তাঁরা কুয়াকাটায় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁদের বহনকারী গাড়ি থেকেও পৌর টোল আদায় করা হয়। মহাসড়কে এভাবে গাড়ি থামিয়ে অর্থ আদায় কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনাল এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে টার্মিনালের বাইরে সড়ক থেকে কাউকে টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সিটি টোলের নামে অর্থ আদায়ের জন্য সড়ক ইজারা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
আমতলী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, মহাসড়কে যানবাহন থেকে পৌর টোল আদায় বন্ধে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এরপরও কেউ অর্থ আদায় করছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটলে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কলাপাড়া পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্য লাল চক্রবর্তী বলেন, শুধু কলাপাড়া বাসস্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে, মহাসড়ক ইজারা দেওয়া হয়নি। মহাসড়কে বাস থামিয়ে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুয়াকাটা পৌরসভার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে টোল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








