Logo

কাপাসিয়ায় আলিম পরীক্ষায় তিন মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:০৩
কাপাসিয়ায় আলিম পরীক্ষায় তিন মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পাশাপাশি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। সব মিলিয়ে সাতটি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র সাতজন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, টোক নগর দারুল হাদিস আলিম মাদ্রাসা থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। আনজাব বালিকা আলিম মাদ্রাসার ১০ জন এবং কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ১২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে এই তিন প্রতিষ্ঠানের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্যে।

কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছাইদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে। পরীক্ষা হলে সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে পড়েছিল। তারা ঠিকমতো লিখতে পারেনি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে ২১ জন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আনজাব বালিকা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার সব ছাত্রী বিবাহিত। এ কারণে তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকত না।’ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে তিনি ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও আশানুরূপ হয়নি। দিঘাব আমজাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র একজন। মেরুয়া আলিম মাদ্রাসার ছয়জনের মধ্যে পাস করেছে একজন। বেলাশীমদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার নয়জনের মধ্যে একজন এবং আড়ালিয়া কেরামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসার চারজনের মধ্যে দুজন পাস করেছে।

সাতটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে সাতজন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বাকি ৫১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষার পরিবেশ এবং সার্বিক তদারকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিনটি মাদ্রাসায় একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে নোটিশের মাধ্যমে ফলাফলের কারণ জানতে চাওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডও তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার এ বক্তব্য অনুযায়ী, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD