Logo

চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ সৎকারে বাধার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:৫৭
চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ সৎকারে বাধার
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১০ হাজার টাকা না দেওয়ায় এক হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বেলতলা মহাশ্মশান কমিটির বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের দাবি, শ্মশানে মরদেহ সৎকার করতে গেলে কমিটির পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। সেই অর্থ দিতে না পারায় শ্মশানের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শ্মশানের এক পাশে মরদেহ সৎকার করা হয়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের বেলতলা মহাশ্মশানে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তাজপুর গ্রামের দিনমজুর যুগল দাশ (৭০)। মৃত্যুর পর স্বজনেরা তাঁর মরদেহ গ্রামের বেলতলা মহাশ্মশানে নিয়ে যান। সেখানে সৎকারের জন্য শ্মশানের চাবি নিতে আহ্বায়ক ভীম ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। এ সময় তিনি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। কিন্তু ওই অর্থ দিতে না পারায় চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্বজনেরা জানান, যুগল দাশ ওই মহাশ্মশানের সদস্য ছিলেন। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। পূর্বপুরুষদের মতো বাবার শেষকৃত্যও গ্রামের মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল পরিবারের। কিন্তু মৃত্যুর পর বাবার মরদেহ সৎকার করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি।

যুগল দাশের বড় ছেলে সুনাতন দাশ বলেন, বাবার মৃত্যুর পর মরদেহ সৎকার করতে গেলে ভীম ঘোষ ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অথচ আমার বাবা ওই মহাশ্মশানের সদস্য ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা চরম অসহায় হয়ে পড়ি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

নিহতের বড় মেয়ে ফুল কুমারীও একই অভিযোগ করে বলেন, বাবার মরদেহ সৎকার করতে গেলে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশী ভবেশ পাল বলেন, যুগল দাশের মরদেহ সৎকারের জন্য ভীম ঘোষের কাছে শ্মশানের চাবি চাইতে গেলে তিনি চাবি দিতে গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে সরাসরি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় চাবি ছাড়াই শ্মশানের এক কোণে সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বেলতলা মহাশ্মশানের আহ্বায়ক ভীম ঘোষ বলেন, বিষয়টি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি নতুন সভাপতি হয়েছি। শ্মশানে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে, এ কারণে টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে পরিবার টাকা দিতে না পারলে সামাজিকভাবে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

একজন মানুষের মৃত্যুর পর স্বজনদের কাছে শেষকৃত্য মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই শেষ বিদায়ের সময় অর্থ দাবির অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। সর্বসাধারণের ব্যবহারের শ্মশানে সৎকারের ক্ষেত্রে আর্থিক শর্ত আরোপ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD