Logo

চবি ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে কৃতিত্বের বিতর্ক, মুখোমুখি চাকসু ও প্রশাসন

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২০:৩৬
চবি ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে কৃতিত্বের বিতর্ক, মুখোমুখি চাকসু ও প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থাপনাকে ‘চাকসুর যত আয়োজন’ আখ্যায়িত করে প্রচার চালাচ্ছেন চাকসু নেতারা। প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া আয়োজনকে চাকসুর আয়োজন হিসেবে দাবি করে কৃতিত্ব নেওয়ার অভিযোগে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। এদিকে পরীক্ষার দিন সকালে কয়েকটি বুথে চাকসুর প্রতিনিধির অনুপস্থিতির কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। তবে চাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চবি প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন করা হয়েছে, যা চাকসুর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অভিভাবক প্যাভিলিয়ন, তথ্য সহায়তা কেন্দ্র ও মেডিকেল সাপোর্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে শুক্রবার পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসজুড়ে স্থাপিত বিভিন্ন সহায়তা কেন্দ্রের ব্যানার, অনলাইন পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি ও অন্যান্য চাকসু নেতৃবৃন্দের ফেসবুক পোস্টে এসব আয়োজনকে ‘চাকসুর যত আয়োজন’ হিসেবে প্রচার করা হয়। এসব পোস্ট ও ব্যানারে প্রশাসনের উদ্যোগের বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, চাকসু বিষয়টি পাবলিসিটি করবে—এটা স্বাভাবিক। এখন তো সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। আমি আগেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি পরিষ্কার করেছি। সবগুলোই আমাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। আমরা আমাদের দায়িত্ব শতভাগ মনোযোগ দিয়ে পালন করেছি এবং প্রাথমিকভাবে তা সফল।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, স্মরণ চত্বরে স্থাপিত একটি বুথে সকালে চাকসুর কোনো প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের প্রক্টরিয়াল বডির প্রচারণার প্রয়োজন নেই। আমরা দায়িত্ব পালন করি। যিনি প্রচারণা করছেন, তিনি তাঁর প্রচারণা নিয়ে সৃষ্টিকর্তার সামনে হাজির হবেন।

প্রক্টর আরও জানান, যেহেতু উপাচার্য চাকসুর সভাপতি, তাই চাকসু বাস্তবায়ন করেছে এবং প্রক্টরিয়াল বডি মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মনোনিবেশ করেছে।

এ বিষয়ে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, প্রতি বছরই ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে এ ধরনের আয়োজন প্রশাসন করে থাকে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেহেতু ছাত্র সংসদ আছে, তাই মূল তত্ত্বাবধায়ন করবে চাকসু এবং সার্বিক সহযোগিতা থাকবে সবার।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে ছয়টি অভিভাবক প্যাভিলিয়ন, ছয়টি তথ্য সহায়তা কেন্দ্র, দুটি মেডিকেল সেন্টার বুথ এবং সার্বক্ষণিক প্রস্তুত তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ছিল। সব আয়োজনই শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। অর্থায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চাকসুর নিজস্ব কোনো বাজেট নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, ক্যাম্পাসে কোথাও এমন কোনো ব্যানার নেই যেখানে প্রক্টরিয়াল বডিকে আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চাকসু ও প্রশাসনকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই। বৃহত্তর অংশ হিসেবেই চাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো আয়োজনে তত্ত্বাবধানে থাকবে।

চাকসু সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আমরা সব আয়োজনই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে করি। প্রশাসন আমাদের আয়োজনে সহযোগিতা করে, আমরাও প্রশাসনের আয়োজনে সহযোগিতা করি। এই আয়োজন হয়েছে চাকসুর তত্ত্বাবধানে এবং প্রশাসনের অর্থায়নে। চাকসুর কোনো বাজেট নেই, চাকসু কে টাকা দেয় ভার্সিটি প্রশাসন, ভার্সিটির প্রশাসন টাকা পায় সরকার থেকে। এখন কি আমি বলবো ভার্সিটির সকল কাজ সরকার করে দিয়ে যাচ্ছে?

বিজ্ঞাপন

চাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, আজকের আয়োজনের ব্যানারে উল্লেখ থাকা উচিত ছিল প্রশাসনের উদ্যোগে এবং চাকসুর তত্ত্বাবধানে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কৃতিত্ব নেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। তাঁদের অভিযোগ, চাকসুর অধিকাংশ নেতা শিবিরসমর্থিত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক রঙ পেয়েছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “শেষ পর্যন্ত ক্রেডিটটা একটি সংগঠনের কাছেই যাবে। কারন যেহেতু অধিকাংশ নেতা শিবির সমর্থিত প্যানেলের তাই চাকসু শিবির। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা প্রশাসন বা চাকসু কেউই গুরুত্ব দিচ্ছে না।

আরেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, প্রশাসনের উচিত ছিল কৃতিত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ছাত্র সংসদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD