রমজানকে ঘিরে আলোর ঝলকানিতে মুখর ঢাবির আবাসিক হলগুলো

পবিত্র মাহে রমজানকে বরণ করে নিতে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো। আত্মশুদ্ধি, সংযম ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আগত এ মাসকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী উৎসবের আবহ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিজয় একাত্তর হল, জিয়াউর রহমান হল, শহীদ ওসমান হাদি হল (প্রস্তাবিত), হাজী মোহাম্মদ মুহসিন হলসহ একাধিক আবাসিক হলের প্রবেশদ্বার ও অভ্যন্তরে ঝলমলে আলোকসজ্জা শোভা পাচ্ছে।
হলগুলোর প্রধান ফটকে রমজানের শুভেচ্ছাবার্তা টানানো হয়েছে। কোথাও ঐতিহ্যবাহী চাঁদ-তারা, কোথাও মসজিদের মিনার কিংবা ইসলামি নকশায় সাজানো হয়েছে প্রবেশপথ। রমজান থিমের ব্যানার ও ফেস্টুনে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
রমজান শুরুর প্রাক্কালে বিভিন্ন হল সংসদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত এই সাজসজ্জা ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি না থাকলেও হল সংসদের সদস্যরা নিজস্ব উদ্যোগে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। অনেকেই নিজ হাতে সাজসজ্জার কাজে অংশ নেন, কেউবা পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
শহীদ ওসমান হাদি হলের (প্রস্তাবিত) আবাসিক শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেন বলেন, প্রতি বছরই রমজানকে ঘিরে হলে বিশেষ আবহ তৈরি হয়। তবে এবারের আয়োজন তুলনামূলকভাবে আরও আকর্ষণীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুধু রমজান নয়—জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসগুলোতেও এমন সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
সূর্য সেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাবিবের ভাষায়, পরিবার থেকে দূরে থাকলেও এমন আয়োজন হলে ভিন্ন এক অনুভূতি তৈরি হয়। রমজান উপলক্ষ্যে হলের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি এবং আলোকিত পরিবেশে সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি দেয়।
শহীদ ওসমান হাদি হলের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহির জানান, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রমজানকে সামনে রেখে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। তবে এবারের আয়োজনকে একটু ব্যতিক্রমী করার চেষ্টা ছিল। হল সংসদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা সংগ্রহ করে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সামগ্রিকভাবে, রমজানকে কেন্দ্র করে এ আলোকসজ্জা শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যই বাড়ায়নি; বরং আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সম্মিলিত চেতনারও প্রকাশ ঘটিয়েছে। ক্যাম্পাসজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনে এনে দিয়েছে উৎসবের আমেজ ও আত্মিক প্রশান্তি।








