Logo

ইবিতে মশার তাণ্ডবে অসহনীয় যন্ত্রণায় চুপচাপ প্রশাসন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মার্চ, ২০২৬, ১৯:১৭
ইবিতে মশার তাণ্ডবে অসহনীয় যন্ত্রণায় চুপচাপ প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা দিন দিন মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা, পরিষ্কার না করা ড্রেন ও ঝোপঝাড়ের কারণে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করা কঠিন করে তুলেছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

সরাসরি ফিল্ড ভিজিটে দেখা গেছে, সাদ্দাম হোসেন হল ও শাহ আজিজুর রহমান হলের আশেপাশে, সাদ্দাম হলের সামনে থেকে জিয়ামোড় পর্যন্ত পুকুরপাড় সংলগ্ন ড্রেন, ক্রিকেট মাঠ ও ঝালচত্বর জুড়ে ফেলে রাখা খাবারের প্যাকেট ও প্লাস্টিকের আবর্জনা মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করছে। রমজান মাসে শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট মাঠে একসাথে ইফতার করেন, এতে প্লাস্টিক ও পচনশীল আবর্জনা জমে গেলে পরিবেশ আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাত্রাবাসগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিকেলের পর থেকে আবাসিক হল, জিয়ামোড়, পুকুরপাড়, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সাধারণ কয়েল বা অ্যারোসল স্প্রে করেও স্বস্তি পাওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

জিয়া হলের শিক্ষার্থী সাহরিয়ার রশীদ নিলয় বলেন, হলে থাকা এখন দুর্বিষহ হয়ে গেছে। মশার কারণে রাতে ঘুমানো তো দূরের কথা, দিনের বেলায়ও রুমে বসা দায় হয়ে গেছে। ড্রেন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করার কারণে মশার বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মশার যন্ত্রণায় পড়ার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগও দিতে পারছি না।

সাদ্দাম হোসেন হলের মানসুর আলী বলেন, মশার উপদ্রব এত বেশি যে স্বাভাবিকভাবে বসা বা পড়াশোনা করা কঠিন। রাতের বেলা মশার কামড়ে ঘুমাতে পারছি না। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগের ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। প্রশাসন যেন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালু করে।

শাহ আজিজ হলের সাজ্জাতুল্লাহ শেখ যোগ করেন, সন্ধ্যা হলেই মশার যন্ত্রণা শুরু হয়। সারাদিন রোজা রাখার পর পড়াশোনায় বসতে গেলে মশার যন্ত্রণায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। খাবার খাওয়ার সময়ও মশা ডিস্টার্ব করে। নিচ তলায় মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞাপন

আয়েশা সিদ্দিকা হলের আজমেরি বলেন, সন্ধ্যার আগেই জানালা বন্ধ করলেও মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এলার্জির রোগীর জন্য এটা আরও সমস্যা। দ্রুত হলের চারপাশ পরিষ্কার করা জরুরি।

ইবি মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. সাহেদ জানান, মশার উপদ্রব শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ডাক্তার ও স্টাফদেরও প্রভাবিত করছে। বিকেলে নীচতলায় বসা দায় হয়ে গেছে। কোলে বা স্প্রে করলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আবার যেকোনো সময় সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

উপাচার্য ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, মশা নিধনের ফগার মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে বলা হয়েছে মেশিন ঠিক করা সম্ভব নয়, নতুন কিনতে হবে। নতুন ফগারের দাম প্রায় ২ লাখ টাকা।

এস্টেট অফিস প্রধান এম আলাউদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগেই প্রশাসন চেষ্টা করবে ক্যাম্পাসে ফগার মেশিন বসিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।

শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে মশার প্রজনন ঠেকাতে এবং ক্যাম্পাস ও হলের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা নেবে, যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আতঙ্ক কমে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD