ছাত্রলীগ করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগে রাহিদ খান পাভেল নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে রোববার দিবাগত রাত তিনটার পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। মারধরের পর রাহিদকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযুদ্ধ জিয়াউর রহমান হলে আবাসিক শিক্ষার্থী। রাহিদ সোমবার ভোরে বলেন, “আমার মাথা, হাত ও শরীর জোরপূর্বক ইট, বেল্ট এবং মোটরসাইকেলের লক দিয়ে মেরেছে। প্রথমে এসএম হলে, তারপর ভিসি চত্বরের সামনে রিকশা থেকে নামিয়ে আমাকে মারধর করেছে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির সামনে এবং শাহবাগ থানার সামনে আমাকে ফেলে দিয়ে গেছে। থানার ভেতরে যখন হামলা চলছিল, পুলিশ আমাকে রক্ষা করেছে।”
রাহিদ অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন হাসিব আল ইসলাম, মো. সাইফুল্লাহ, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, আবরার এবং আরও কয়েকজন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সময় উপস্থিত হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় রাহিদ হামলাকারী ছিল। বিভাগ এবং হলে তাকে বয়কট করা হয়েছে। এর আগেও শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে থানায় দিয়েছিল। ক্যাম্পাসে আর আসবে না, এই শর্তে তার মা-বাবা নিয়ে গিয়েছিলেন। ইদানীং সে ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগারদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল, প্রোগ্রাম করেছে এবং পোস্টারিং করেছে। তাকে ধরে থানায় পাঠানো হয়েছে।”
তবে রাহিদ ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। রাহিদ বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি নিয়মিত শিক্ষার্থী। নিয়মিত ক্লাস করি। চাইলে দর্শন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব।”
আহত রাহিদকে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) খোকন মিয়া জানান, “তাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”








