উদ্বোধনের আগেই ফাটল, নিরাপত্তা শঙ্কায় রাবির ‘বিজয় ৭১’ হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নির্মাণাধীন ১০ তলা আবাসিক ভবন ‘বিজয় ৭১’ হলে উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা শেরেবাংলা ফজলুল হক হল থেকে স্থানান্তরিত কিছু শিক্ষার্থী বর্তমানে এই ভবনে অবস্থান করছেন। তবে নতুন ভবনেও ফাটল দেখা দেওয়ায় তারা আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি হলটির নির্মাণকাজ চলাকালে মিলনায়তনের ছাদ ঢালাইয়ের সময় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৯ জন শ্রমিক আহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নির্মাণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ তলা আবাসিক হলটির নির্মাণকাজ করছে আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। একই প্রতিষ্ঠান ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ তলাবিশিষ্ট বিজ্ঞান ভবনের নির্মাণকাজও বাস্তবায়ন করছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারা, নির্মাণকাজে দুর্ঘটনা এবং শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটি আগেও সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া হলটির নির্মাণকাজ একাধিকবার সময় বাড়িয়েও এখনো সম্পূর্ণ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যাচ্ছে এবং মেরামতের পরও কিছু জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, পুরোনো হলের ঝুঁকির কারণে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলেও এখানেও ফাটল দেখা যাচ্ছে, যা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আরেক শিক্ষার্থী শাহিব বিল্লাহ বলেন, উদ্বোধনের আগেই ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মিনহাজুল আলম বলেন, ফাটলগুলো তাপমাত্রাজনিত কারণে হয়ে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক এস. এম. ওবায়দুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তায় কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না। বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল কিংবা প্লাস্টারের কারণে এ ধরনের ফাটল হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রকৌশলীদের একটি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রায় ২৪ হাজার বর্গমিটার আয়তনের ‘বিজয় ৭১’ হলে এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই হলটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ থাকলেও ফাটল দেখা দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।








