৬ দফা দাবিতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকদের মর্যাদা রক্ষা, বৈষম্য দূরীকরণ, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং যৌক্তিক কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ক্যাম্পাসজুড়ে তাদের স্লোগানে আন্দোলনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের বার্তা উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি আন্দোলনকারীদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের আন্দোলন চলবে। তিনি দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে দেশজুড়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক, পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরা একযোগে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে রোববার থেকে সারাদেশে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। একই সময় মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি পালন করছেন।
এদিকে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ওই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হবে এবং একটি সমাধানের পথ বের হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এ আন্দোলনের প্রভাব আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্দোলনকারীদের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নসংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস)-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের ৯ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন-২০০৬ অনুসারে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবিও রয়েছে তাদের কর্মসূচিতে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতেই তাদের এই আন্দোলন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানিয়েছেন।








