ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বাতিলে ৩ দিনের আল্টিমেটাম

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ‘সংযুক্ত কলেজ’ শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কিছু অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ কারণে বিতর্কিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাবের হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে একীভূত করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ের পরিবর্তে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ‘সংযুক্ত কলেজ’ ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র সত্তা ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা মনে করেন, এ ধরনের উপস্থাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ভুল বার্তা দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানান, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়। বরং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেন।
তিন দফা দাবি তুলে ধরলেন শিক্ষার্থীরা
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়।
প্রথমত, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে থাকা বিতর্কিত ও অধ্যাদেশবিরোধী বিষয়গুলো সংশোধন করতে হবে। বিশেষ করে ‘সংযুক্ত কলেজ’ সংক্রান্ত উল্লেখ বাদ দিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নামে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দিতে হবে এবং বর্তমানে চলমান সব শিক্ষাবর্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাত কলেজে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তৃতীয়ত, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অভিন্ন পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদান করতে হবে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো অনেক শিক্ষার্থী অভিন্ন পরিচয়পত্র পাননি, যা প্রশাসনিক ও একাডেমিক নানা কাজে সমস্যার সৃষ্টি করছে।
দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমকে সুসংহত ও কার্যকর করতে দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ভর্তি প্রক্রিয়া, শিক্ষার্থীদের পরিচয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা রাখা উচিত নয়।
তারা আরও বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায়ে মাঠে থাকারও ঘোষণা দেন তারা।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটামের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।








