Logo

বাকৃবিতে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতিতে নস্টালজিক আবহ

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩
বাকৃবিতে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতিতে নস্টালজিক আবহ
ছবি: প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই ফুটবল মহাযজ্ঞের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও।

বিজ্ঞাপন

তবে শুধু বর্তমান সময়ের তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র নয়, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার গ্রাফিতি এঁকে বিশ্বকাপ উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বাকৃবির শাহজালাল হলের কমনরুমের দেয়ালে ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি এঁকেছেন ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত। অন্যদিকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের প্রতিকৃতি এঁকেছেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি।

বিজ্ঞাপন

মেসি-নেইমারদের পাশাপাশি পেলে-ম্যারাডোনাকে ঘিরে আঁকা এই দেয়ালচিত্র দুটি বাকৃবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এনেছে ভিন্ন আমেজ। গ্রাফিতি দেখতে এবং ছবি তুলতে প্রতিদিনই শাহজালাল হলে ভিড় করছেন বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা।

পেলের গ্রাফিতি অঙ্কনকারী ব্রাজিল সমর্থক ইমতিয়াজ ফারাবি বলেন, “আমার কাছে পেলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যাঁর হাতে তিনটি বিশ্বকাপের ট্রফি উঠেছে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তার কীর্তি আজও অনন্য।”

প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার এই গ্রাফিতি তৈরির অভিজ্ঞতা জানিয়ে ফারাবি বলেন, পুরো কাজটি শেষ করতে তার প্রায় তিন দিন ও তিন রাত সময় লেগেছে। প্রথম দিন স্কেচ এবং পরের দুই দিন রঙের কাজ করেছেন তিনি। গ্রাফিতিতে প্রায় ১৮ ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস শেষে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ম্যারাডোনার গ্রাফিতি অঙ্কনকারী আর্জেন্টিনা সমর্থক রেজওয়ানুল হক শান্ত বলেন, প্রতি চার বছর পর বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দ আরও বাড়াতেই এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রায় ১১ ফুট উচ্চতার ম্যারাডোনার গ্রাফিতি আঁকতে দুই দিন সময় লেগেছে। এতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও সহযোগিতা করেছেন। হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নে গ্রাফিতির খরচ বহন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু শাহজালাল হল নয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও ঈশা খাঁ হলের দেয়ালেও শিক্ষার্থীরা ফুটিয়ে তুলেছেন বিশ্বকাপের নানা রঙ।

চলতি প্রজন্মের তারকাদের পাশাপাশি পেলে ও ম্যারাডোনার এই গ্রাফিতি ক্যাম্পাসে তৈরি করেছে নস্টালজিক আবহ। আঁকার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন দুই শিক্ষার্থী।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD