Logo

রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি প্রেমিকের কাছে পাঠাতেন ছাত্রী, অতঃপর..

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৩৫
রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি প্রেমিকের কাছে পাঠাতেন ছাত্রী, অতঃপর..
ছবি এআই।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর অভিযোগে তুবাউল জান্নাত ঐশী নামে এক ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত জুলাই-৩৬ হলের ৯ম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত তুবাউল জান্নাত ঐশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, তার বাড়ি যশোর জেলায়।

অভিযোগকারী ও রুমমেট শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন ঐশী। সম্প্রতি ওই ব্যক্তি কিছু ছবি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠালে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার অভিযোগের সমর্থনে কিছু স্ক্রিনশটও তারা সংরক্ষণ করেছেন বলে জানান।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, হল প্রশাসনের ৯ম জরুরি সভায় অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম (সহকারী প্রক্টর) এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রীর দুইটি মোবাইল ফোন হল প্রশাসন জব্দ করে তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছে। তদন্ত কমিটি এসব বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অভিযোগের বিষয়ে তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, ‘যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে।’ এ সময় তিনি পরদিন প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

একাধিক সূত্রের দাবি, আবিদ নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালে তার কাছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ব্যক্তি হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কিছু ছবি পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারা জড়িত তা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD