জনগণকে আশরাফুল ভাবা বন্ধ করেন: শিক্ষামন্ত্রীকে জুবায়ের

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং এ নিয়ে ছড়ানো তথ্যকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করার পর তার প্রতিক্রিয়ায় এ বি জুবায়ের বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতিবাদের পর সেটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আয়োজিত ছাত্র জমায়েতে বক্তব্য দেন ডাকসুর এই নেতা। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
‘জনগণকে আশরাফুল ভাবা বন্ধ করেন’
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে এ বি জুবায়ের বলেন, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মাঠে নামার পর সেটিকে গুজব হিসেবে আখ্যায়িত করা ঠিক নয়।
তিনি শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণকে আশরাফুল ভাবা বন্ধ করেন।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ডাকসু নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিকে গুজব বলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ ধরনের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যের পরিবর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
৩ আগস্টের সভা নিয়ে জুবায়েরের দাবি
এ বি জুবায়ের দাবি করেন, গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত একটি সভায় শিক্ষামন্ত্রী নিজেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সভায় এনটিআরসিএর নিয়োগসংক্রান্ত ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, সভায় এনটিআরসিএকে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন দেওয়ার কাজে সীমাবদ্ধ রাখা এবং শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
তবে শিক্ষামন্ত্রী এর আগে জানিয়েছেন, কোনো সভার রেজুলেশন তৈরি হলেই সেটি চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন মন্ত্রণালয়ে আসার পর মন্ত্রী তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
এনটিআরসিএর নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর বিদ্যমান ভূমিকা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।
বিজ্ঞাপন
এ বি জুবায়ের বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা গেলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তার আশঙ্কা, এতে যোগ্যতার বদলে অর্থনৈতিক লেনদেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব শিক্ষক নিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে যদি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কমিটির সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পায়, তাহলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
বিজ্ঞাপন
‘মেধার সামনে দুর্নীতির দেয়াল’ তোলার অভিযোগ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডাকসুর এই নেতা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করেছে। কিন্তু এখন শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা বাড়ানো হলে মেধার সামনে নতুন ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।
তার ভাষায়, শিক্ষার্থীরা একসময় মেধার সামনে থাকা কোটার বাধা দূর করার আন্দোলন করেছে। এখন আবার কমিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে মেধার সামনে ‘দুর্নীতির দেয়াল’ তৈরি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
‘আমরা স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স চাই’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সিদ্ধান্তটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এ বি জুবায়ের। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে বা দীর্ঘ বক্তব্য দিতে চায় না। তারা শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এনটিআরসিএর মাধ্যমে আগের মতো মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে—শিক্ষামন্ত্রীকে এমন স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
‘একটি মিথ্যা ঢাকতে একশ মিথ্যা চাই না’
সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি সতর্কবার্তাও দেন ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অস্পষ্ট বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর অবস্থান শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। একটি বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীকে আশপাশের ব্যক্তিদের পরামর্শ বা প্ররোচনায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান জুবায়ের, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের আন্দোলনের কারণ হতে পারে।
সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে এ বি জুবায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে যে রেজুলেশন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেও এখন নজর রয়েছে।








