দুদিন সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

টানা দুই দিনের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে ক্যাম্পাসে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
বৃষ্টির মধ্যেও ছাতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত নেতাদের একটি ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের গুরুতর পাঁচজনসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের পর একই স্থানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাজহাট থানা পুলিশের কাছে ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করা হয়েছিল।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পরও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের একই মঞ্চে উপস্থিতি স্বস্তি দিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেককে। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা কোনোভাবেই সংঘাত বা সহিংসতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়।
বিজ্ঞাপন
বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে ছাত্রশিবির বাধা দিয়েছে—এমন ঘটনা নেই। আগেও তারা বাধা দেননি, ভবিষ্যতেও দেবেন না। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি। পাশাপাশি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লেখা ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ স্লোগানটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়েছে। জুলাইয়ের মতো ঐক্যবদ্ধ থেকেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মতবিরোধ ও দ্বন্দ্বকে সহিংসতায় রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, দিনটি তাদের জন্য আনন্দের। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। কোনো স্বৈরাচারী পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে না আসে, সেটিই প্রত্যাশা। ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।








