ঢাবির জুলাই বিরোধী শিক্ষকদের তালিকা তৈরিতে কারা করল তদন্ত?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ যাচাই করতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে যে তালিকার ভিত্তিতে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেই তালিকা কারা তৈরি করেছে, কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক ফোরাম’-এর ব্যানারে প্রায় দুইশ পৃষ্ঠার একটি নথি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে ২৮ জুলাই সিন্ডিকেটের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হলে অভিযোগ ও নথিগুলো যাচাইয়ের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুই প্রো-ভিসি, যারা ওই কমিটির সদস্য, তারা দুজনই জানিয়েছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজে কোনো তালিকা তৈরি করেনি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে জমা দেওয়া নথি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এখন সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।
২৩১ ও ১২৫ শিক্ষকের দুটি তালিকা
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে শিক্ষকদের নাম ও বিভাগ উল্লেখ করে দুটি পৃথক তালিকার কথা সামনে এসেছে। একটি তালিকায় ২৩১ জন এবং অন্যটিতে ১২৫ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে।
প্রথম তালিকাটি ‘লিস্ট অব টপ ব্লু টিচার্স’ নামে পরিচিত হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের নাম রয়েছে।
তবে তালিকায় নাম থাকা শিক্ষকদের সবাই যে সরাসরি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক। এমনকি শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তির নামও তালিকায় থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও বিস্ময় তৈরি করেছে দ্বিতীয় তালিকাটি। ২৩১ জনের তালিকা থেকে ১০৬ জনকে বাদ দিয়ে ১২৫ জনের আরেকটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। তবে এই দ্বিতীয় তালিকা কে তৈরি করেছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আল মুজাদ্দেদি আলফেছানি জানিয়েছেন, তিনি তালিকার সঠিক সংখ্যা সম্পর্কেও নিশ্চিত নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, উপাচার্যের হাতে যে নথি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সংখ্যা ও বিষয়বস্তু যাচাই করাই এখন কমিটির দায়িত্ব।
তিনি বলেন, উপাচার্য নথিগুলো সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করার পর সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরপর উপাচার্য, দুই প্রো-ভিসি এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে নিয়ে চার সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
কারা তালিকা জমা দিয়েছে, জানেন না প্রশাসনের সদস্যরা
তালিকাটি কারা তৈরি করেছে—এমন প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি কমিটির সদস্যরা।
প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব কোনো তালিকা নেই। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন তালিকার উৎস সম্পর্কে জানতে হলে যারা তালিকা দিয়েছে তাদের পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
অধ্যাপক আলফেছানিও জানিয়েছেন, উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া নথিতে কারা স্বাক্ষর করেছেন, সেটি তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৮ জুলাই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পরও যাচাই-বাছাই কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। ফলে কোন তালিকাকে ভিত্তি করে তদন্ত শুরু হবে, অভিযোগগুলো কীভাবে যাচাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য কীভাবে নেওয়া হবে—এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অধ্যাপক আবদুস সালামের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিটি বৈঠকে বসার পরই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ৬৮ শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনা নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৬৮ শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম, বিশেষ করে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট আন্দোলনবিরোধী মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান ও তদন্তও হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্তর্বর্তী সময়ে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত বেআইনি ও সহিংস ঘটনার অনুসন্ধানে পৃথক তথ্যানুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেইসব তদন্ত ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সিন্ডিকেটে আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত
বিজ্ঞাপন
২৮ জুলাইয়ের সিন্ডিকেট বৈঠকে শুধু শিক্ষকদের তালিকা যাচাইয়ের সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরও চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পর্যালোচনা এবং নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্যও একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সাদা দল ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর বক্তব্য
বিজ্ঞাপন
তালিকা তৈরির সঙ্গে বিএনপিপন্থি সাদা দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে সাদা দলের নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
১ আগস্ট সাদা দলের নেতাদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া পৃথক তালিকার সঙ্গে সাদা দলের কোনো সম্পর্ক নেই। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সাদা দল।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকও দাবি করেছে, তাদের সংগঠন এই তালিকা তৈরি করেনি। সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক জানিয়েছেন, তালিকা তৈরির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা যেন ন্যায্যতা, সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে করা হয়।
‘উইচ-হান্টিং’ নিয়ে উদ্বেগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে সক্রিয় থাকা শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কও ২৩১ শিক্ষকের তালিকা এবং সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, অভিযোগ প্রমাণের আগে ঢালাওভাবে শিক্ষকদের তালিকাভুক্ত করা, সেই তালিকা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘ সময়ের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে তদন্তের আওতায় আনার উদ্যোগ ‘উইচ-হান্টিং’ সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।
তাদের বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ অনুযায়ী শিক্ষকদের রাজনৈতিক মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। শুধু কোনো রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা সমর্থনের কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
তবে একই সংগঠন শিক্ষক হিসেবে নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে যথাযথ জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করেনি। তাদের দাবি, প্রতিহিংসার পরিবর্তে আইন, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নীল দলের শিক্ষকদের বক্তব্য
তালিকায় নাম থাকা নীল দলের শিক্ষকরা বলছেন, শুধু কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
নীল দলের কো-কনভেনর ও গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ দে দাবি করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ অনুযায়ী শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার রাখেন। তার মতে, কোনো শিক্ষক যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বা বিধির পরিপন্থী কোনো কাজ না করে থাকেন, তাহলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে হয়রানি করা উচিত নয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শিক্ষককে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, রাজনৈতিক চাপ বা সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হয়রানি করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তালিকায় থাকা শিক্ষকদের প্রশ্ন
২৩১ ও ১২৫—দুই তালিকাতেই নাম রয়েছে এমন কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও জানা গেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমানের নাম দুই তালিকাতেই রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি দুই দফায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য না নিয়েই অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। পরে তদন্ত কমিটির কাছে তিনি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে অধ্যাপক রহমান দাবি করেছেন, যে বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি এমন বক্তব্য দেননি।
তার মতে, নিয়মবহির্ভূত বা শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে ঢালাওভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তচিন্তার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক হবে।
আরেকজন শিক্ষক, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, জানিয়েছেন যে তিনি শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা থেকেই নিজের নাম থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
তার প্রশ্ন, ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে ২৩১ জনের তালিকা কমে ১২৫ জনে পরিণত হলো এবং কারা এই পরিবর্তন করল।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো অভিযোগ বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা নেই। নিয়মিতভাবেই শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করলেও তালিকায় নিজের নাম দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
মূল প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠিত হলেও এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট হয়নি।
কারা প্রথম তালিকাটি তৈরি করেছে, কারা সেটি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছে, ২৩১ ও ১২৫ জনের দুটি তালিকার মধ্যে পার্থক্যের কারণ কী, কোন তালিকাকে ভিত্তি করে তদন্ত হবে এবং তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ কী—এসব বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগ সত্য হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ফলে এখন নজর থাকবে চার সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটির বৈঠক ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা








