কুবির আবাসিক হলগুলোতে মশার উৎপাত, ড্রেন-আবর্জনায় বাড়ছে ঝুঁকি

মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্প্রে করার উদ্যোগ থাকলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে কমছে না মশার উপদ্রব। হলের ড্রেন, জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনার কারণে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে একদিকে মশানাশক স্প্রে করা হলেও অন্যদিকে নতুন করে মশা জন্মানোর পথ বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ও আশপাশের জায়গায় ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। ড্রেনের কোন কোন অংশে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না পানি। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়া এসকল জায়গা মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ নিয়ে বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহমদুল্লাহ আব্দুল্লাহ তারেক বলেন, আমাদের আবাসিক হলগুলোতে এখনো আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। আর এদিকে ড্রেনগুলোতে ময়লা আবর্জনা থাকার কারণে স্প্রে করা হয়, কিন্তু এগুলোর কতটুকু কার্যকারিতা রয়েছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। মাঝে মাঝে পরিষ্কার করা হয় ঠিক, এমনিতে হলের চারপাশ সবসময়ই অপরিষ্কার অবস্থায় থাকে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব শুধু সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ও কক্ষে মশার উৎপাত দেখা যায়। এতে পড়াশোনা, ঘুম ও দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রাতে পড়তে বসলে কিংবা ঘুমানোর সময় মশার উপদ্রব বেশি হয় বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
আরেক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী রনি আহমেদ জানান, রুমের পাশের ড্রেনগুলোতে প্রায়ই পানি আটকে থাকে৷ মাঝেমধ্যে মশা মারার স্প্রে করে কিন্তু ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে না। এজন্য মশার উৎপাত পুরোপুরি যায় না। ফলে রাতে পড়াশোনায় কিংবা ঘুমের সময় মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এখন আবার মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও হয়। ফলে আবর্জনার সাথে পানি জমে মশার ডিম বাড়ছে, সাথে আমাদের ভোগান্তিও।
সুনীতি-শান্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোসা: খাদিজা আক্তার বলেন, "হলে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয় না; দিলেও মাসে একবারের বেশি দেখা যায় না। হলের চারপাশে ড্রেন থাকায় দ্রুত মশার বংশবিস্তার হয়, ফলে রিডিং রুম থেকে শুরু করে কক্ষের ভেতরেও তীব্র মশার উপদ্রব রয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় এ পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মশার কয়েল ব্যবহার করলেও নিয়মিত কিনে ব্যবহার করা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।"
এ নিয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহমুদুল হাসান খানের সাথে কথা হলে তিনি জানান হল প্রশাসন এই বিষয়ে দেখেন না।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, মশা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বললেও এর দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, স্প্রে করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থলগুলোও চিহ্নিত করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে স্প্রে করার পর সাময়িকভাবে মশা কমলেও কিছুদিন পর আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা হতে জানা যায়, হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় মশানাশক স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আবাসিক হলগুলোতে সপ্তাহে একদিন স্প্রে করা হলেও বিভিন্ন সময় স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সপ্তাহে একদিন স্প্রে করা হয়। এছাড়া স্প্রের মধ্যে ব্যবহৃত ঔষধটা দুর্লভ বিধায়, সবসময় পাওয়া যায় না। ফলে অনেকসময় এটা সাপ্তাহিক করা যায় না, বিঘ্ন ঘটে।
মশার আবাস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে তিনি বলেন, যখন স্প্রে করা হয়, তখন হলের যেসব জায়গায় ময়লা আবর্জনা বেশি, পানি জমা রয়েছে, সেগুলো দেখিয়ে দিতে হবে, তাহলে সেইসব জায়গায় মশার মশানাশক স্প্রে করলে মশার উপদ্রব কমতে পারে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মতে, মশার উপদ্রব বেড়ে গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। তাই রোগের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, মশার উপদ্রব বাড়লে মশাবাহিত রোগ গুলার উপদ্রব বেড়ে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি। এগুলো থেকে পরিত্রাণের জন্য চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, মশার জন্মস্থানগুলো ধ্বংস করে দিতে হবে এবং নিয়মিত এসব জায়গায় কীটনাশক দিতে হবে।








