Logo

শিল্পের চাহিদায় দক্ষ গ্র্যাজুয়েট গড়তে নতুন পথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:০৪
শিল্পের চাহিদায় দক্ষ গ্র্যাজুয়েট গড়তে নতুন পথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পর কর্মজীবনে প্রবেশের সময় অনেক গ্র্যাজুয়েটকেই পড়তে হয় বাস্তব দক্ষতার ঘাটতিতে। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে এখন প্রয়োজন প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সময়োপযোগী দক্ষতা। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের চাহিদার মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্বই অনেক তরুণের কর্মসংস্থানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে প্রকাশিত লেবার ফোর্স সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্নাতক পাস করা বেকারের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৫ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদধারী বেকারের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিপরীতে কোনো ধরনের পড়াশোনা না করা জনগোষ্ঠীর বেকারত্বের হার মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এই চিত্র উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানের বিষয়টি সামনে এনেছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে একাডেমিক শিক্ষার সমন্বয় না হলে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করেও চাকরির বাজারে অনেক তরুণ পিছিয়ে পড়ছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। শ্রেণিকক্ষের পাঠকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৮ আগস্ট নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পাসের উপাচার্যের বাসভবনে প্রথমবারের মতো ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেশের ৪২টি শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্প খাতের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা জানান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রচলিত একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এজন্য সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গোলটেবিল বৈঠকের পর শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়াতে দেশের ছয়টি শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

সমঝোতা হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—স্মার্ট সলিউশন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), ড্যাপকো ভেঞ্চারস লিমিটেড, সুপ্রিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, উইডেভস অ্যান্ড উইল্যাব এবং ফ্লোরিনা কসমেটিকস।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এসব সমঝোতার ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ইন্টার্নশিপ, স্পনসরশিপ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক সহযোগিতা বাড়বে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গবেষণাগার পারস্পরিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শিল্প খাতের আধুনিক ল্যাব ও প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাস্তবভিত্তিক গবেষণার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারও শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে গবেষণার ফলাফল বাস্তব শিল্প সমস্যার সমাধানে প্রয়োগের সুযোগ বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, “বিসিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এর ফল আগামী সপ্তাহ থেকেই আমরা পাব আশা করছি। বাকিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে এর ফল ভোগ করতে পারব।”

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে শুধু একটি ডিগ্রি তুলে দেওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়; তাঁদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও চাকরির দরজা খুলে দেওয়া। শিক্ষক-গবেষক বিনিময় এবং ল্যাব সুবিধার পারস্পরিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যা শিক্ষার্থীদের আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মযোগ্যতাকে দ্বিগুণ করবে।”

শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় হলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময়ই কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে চাকরির বাজারে প্রবেশের আগেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন তাঁরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে তাই শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতার এই পথচলা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণামুখী, দক্ষতা-নির্ভর ও কর্মসংস্থানবান্ধব উচ্চশিক্ষার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD