কার্বডিটের হাত ধরে গাকৃবির আন্তর্জাতিক সাফল্য

গ্রামীণ মানুষের গাছকে জলবায়ু অর্থনীতির সম্ভাবনাময় সম্পদে রূপান্তরের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘কার্বডিট’। সিআইআরডিএপি-রিডস আন্তর্জাতিক গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ-২০২৬ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নির্বাচিত সেরা পাঁচ উদ্ভাবনী দলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
আগামী ৬ থেকে ১০ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘এশিয়া প্যাসিফিক কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন রুরাল ডেভেলপমেন্ট’-এ নিজেদের উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছে কার্বডিট। সেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও উদ্ভাবকদের সামনে বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতার আলোকে তৈরি মডেলটি তুলে ধরবেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবকেরা।
কার্বডিট দলের দলনেতা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল্লাহ মানওয়ার। তিনি দলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাবিয়ান তাসকিন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, অদিতি ঘোষ প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং আরফা সাইয়ারা রিজা উন্নয়নকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিযোগিতায় ১৩টি দেশের মোট ১৮৭টি উদ্ভাবনী প্রস্তাব জমা পড়ে। আন্তর্জাতিক বিচারক কমিটির কঠোর ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরা উদ্ভাবনগুলো নির্বাচন করা হয়। গত ৬ জুলাই সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কার্বডিট দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
কার্বডিটের উদ্ভাবনের নাম ‘কার্বডিট: গ্রামীণ ক্ষমতায়নের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক ডিজিটাল কার্বন অর্থায়ন মডেল’। এর মূল লক্ষ্য গ্রামীণ পরিবারের গাছগুলোকে সমষ্টিগতভাবে পরিমাপযোগ্য কার্বন সম্পদে রূপান্তর করে বৈশ্বিক কার্বন বাজার ও জলবায়ু অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলোর মালিকানাধীন গাছকে শুধু পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অংশ হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
উদ্ভাবনটির মাধ্যমে গাছের মালিকরা তাদের পরিবেশগত অবদানের আর্থিক মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের সম্পৃক্ত করে গাছের তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন সম্পদ তৈরির একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেই জলবায়ু অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন কার্বডিটের উদ্ভাবকেরা।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবজনক অবস্থান তৈরিতে শিক্ষার্থীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অর্জন মূলত শিক্ষার্থীদের গুণগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তিনি কার্বডিট দলের সদস্যদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
কার্বডিটের এ অর্জন শুধু একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, গ্রামীণ মানুষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবকদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকেও এ অর্জন নতুনভাবে তুলে ধরেছে।








