ইবিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুকুরে নামছেন শিক্ষার্থীরা

দুর্ঘটনা এড়াতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে নামার ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা মানছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরপাড়ে সতর্কবার্তা ও নিষেধাজ্ঞা সংবলিত সাইনবোর্ড টানানো হলেও প্রতিদিন দলবেঁধে পুকুরে সাঁতার কাটতে নামছেন তারা। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি। তবে এবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুরে নামলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, পুকুরটিতে কোনো লাইফ জ্যাকেট, লাইফগার্ড কিংবা জরুরি উদ্ধার সরঞ্জামের ব্যবস্থা নেই। অতীতেও একই স্থানে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরপরও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। গতকাল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুরে নামা এক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, তীব্র গরম ও সাঁতার কাটার আগ্রহ থেকেই অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুকুরে নামছেন। তবে প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর নজরদারি না থাকায় নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই বিকেলে এই পুকুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর প্রশাসন পুকুরটিতে নামার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু এরপরও শিক্ষার্থীদের অনেকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুকুরে নামতে থাকেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী পুকুরের পানিতে ডুবে যান। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসার মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এবার থেকে পুকুরে নামার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুকুরটির নিরাপত্তায় পৃথকভাবে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ পুকুরে নামলে তার নাম তালিকাভুক্ত করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা-বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা নিয়ম অমান্য করে পুকুরে নামছেন। এবার থেকে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যাবে। যারা পুকুরে নামবেন, তাদের তালিকা তৈরি করে শৃঙ্খলা-বিধি অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে।








