৭ কলেজের ২০২১-২২ সেশনকে ডিসিইউতে অন্তর্ভুক্তির দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিসিইউ) অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাগত অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত মাইগ্রেশন সম্পন্ন করে একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এসব দাবি জানান।
‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত চলমান শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করা। এর মধ্যে ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তাদের অভিযোগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় থাকার পরও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
তিতুমীর কলেজের দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এম এ মানিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি।
তিনি বলেন, তাদের দাবি ডিসিইউতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার।
বিজ্ঞাপন
মানিক আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদগুলো মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পরও আলোচনা ও মতবিনিময়ের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
২৫ জুলাইয়ের তথ্য তুলে ধরে প্রশ্ন
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৫ জুলাই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করা ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রোগ্রামে মাইগ্রেশনের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
বিজ্ঞাপন
এমনকি এ বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির কথাও বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, যখন বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনাধীন এবং সমাধানের জন্য রোডম্যাপ তৈরির কথা রয়েছে, তখন সেটি বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন হচ্ছে?
তাদের দাবি, মাইগ্রেশনের বিষয়ে দ্রুত সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়ে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।
চার বছরের বৈষম্যের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন
ঢাকা কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. হোসাইন অভিযোগ করেন, ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর গত চার বছর ধরে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
তার দাবি, শিক্ষার্থীরা ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রত্যাশিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে সনদে ‘অ্যাফিলিয়েটেড’ শব্দ যুক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে দেখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হোসাইনের ভাষ্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, উপাচার্য ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে গেছে। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাইগ্রেশনের বিষয়ে সম্মত থাকার পরও শিক্ষার্থীদের দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না—এ নিয়ে তারা হতাশ।
বিজ্ঞাপন
তিনি দ্রুত শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে অন্তর্ভুক্ত করে পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান।
দ্রুত রোডম্যাপ চান শিক্ষার্থীরা
সংবাদ সম্মেলন থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলেই তাদের সমস্যার সমাধান হবে না। মাইগ্রেশন, পরীক্ষা, ফলাফল, সনদ এবং একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করার বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তাদের দাবি, রোডম্যাপ অনুযায়ী কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
তিতুমীর কলেজে হামলার প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলন শেষে তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাত কলেজের সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চলমান সমস্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা ভবন কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা একাডেমিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে।








