ঢাবিতে আবারও সমকামিতার অভিযোগ, হল থেকে দুই ছাত্রকে বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে কথিত সমকামিতার অভিযোগে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে হল সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১২ আগস্ট) শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি করে হল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়।
হল সংসদের জিএসের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি শুধু হল পর্যায়ের শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে।
হল সংসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন জিএস আহমেদ আল সাবাহ। এরপর অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে কথিত অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আফিফ হাসান নীরব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অপর শিক্ষার্থী আরিফুল হক শুভ মার্কেটিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা।
তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে হল সংসদের বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও শাস্তির বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ অবস্থান স্পষ্ট হবে।








