Logo

‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্ত ঘিরে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২ আগস্ট, ২০২৬, ২০:১৯
‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্ত ঘিরে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে একটি অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর উভয় সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে এবং কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তের জন্য হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম চলাকালেই প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা প্রভোস্ট কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বিষয়ে শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) অভিযোগ করেন, তদন্তের নামে ছাত্রশিবির হল সংসদের এজিএসকে রক্ষার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, যাতে অভিযোগের সময় এজিএস সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা যাচাই করা না যায়।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলার সময় ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্য অনুমতি ছাড়াই কক্ষে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপস্থিত হাউস টিউটররা সবাইকে বাইরে যেতে বললেও পরে প্রভোস্ট কার্যালয়ের সামনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

তৌকির হাসানের ভাষ্য, ছাত্রদল অভিযোগ তোলে যে ছাত্রশিবিরের এক সদস্য তাদের ছবি তুলেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে পরিস্থিতি ধারণের জন্য ভিডিও করা হলে সেটিকেও কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন হাউস টিউটরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞার পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল—দুই পক্ষই দাবি করেছে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরপরই সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, প্রশাসনিকভাবে এখনো তিনি এ ধরনের কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD