জ্বলন্ত সিগারেট হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে ইবি প্রক্টর

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির মাদকবিরোধী অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে জ্বলন্ত সিগারেট হাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে মাদকবিরোধী অভিযানে নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় প্রক্টরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক ও নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রক্টর এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর, ঝাল চত্বর, বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের আশপাশ, কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠের কোনা, পেয়ারা বাগান, ছাত্রী হল এলাকা এবং ইবি লেকে অভিযান চালানো হয়। এসব এলাকায় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম (ফেসবুক পেজ) থেকে ইবি প্রক্টরের এ অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে প্রক্টরিয়াল বডিকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি দেখা যায়, ইবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জ্বলন্ত সিগারেট হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের এহেন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একজন প্রক্টর এভাবে ওপেনলি সিগারেট হাতে মাদকবিরোধী অভিযান করছেন, এটা দেখে শিক্ষার্থীরা কী শিক্ষা পাবে? মাদকবিরোধী অভিযানকারী যদি হাতে মাদক সমমান দ্রব্য রাখেন তাহলে মাদকবিরোধী অভিযানের কোন যৌক্তিকতা থাকে বলে মনে করি না। শিক্ষকদের অবশ্যই প্রকাশ্য ধুমপান থেকে বিরত থাকা উচিৎ।’
ব্যাঙ্গ করে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘উনার অভিযান দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে গেল। মাদকবিরোধী অভিযানের গুরুত্ব উনি এত গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন যে, হাতে সিগারেটটা জ্বালিয়েই মাঠে নেমে পড়লেন। আগুন তো একটা লাগাতেই হবে সেটা সিগারেটের মুখেই হোক আর মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানেই হোক। কিন্তু প্রক্টর স্যারের এই ধোঁয়াটে অভিযান দেখে বুঝলাম না, উনি ক্যাম্পাসে মাদক দূর করতে এসেছিলেন, নাকি নিজের সিগারেট ফোঁকার জন্য পরিবেশবান্ধব একটা নিরাপদ জায়গা খুঁজছিলেন।’
বিজ্ঞাপন
অভিযানে প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল রাতে আমরা প্রক্টর স্যারের নির্দেশে অভিযান চালাই। অভিযানে কোনো মাদক দ্রব্য পাওয়া যায় নাই। তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে চার/পাঁচটি প্রেমিক জুটি দেখা গেছে; তাদের আমরা নিষেধ করছি। পরবর্তীতে এধরণের পরিস্থিতিতে দেখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রক্টর স্যার তাদের সতর্ক করেছেন। যদিও গতকালের অভিযানে কোন মাদক পাওয়া যায়নি তবে অভিযান চলমান থাকবে।’
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।








