Logo

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে নগরবাসী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০১
রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে নগরবাসী
ছবি: সংগৃহীত

শীত মৌসুম এলেই রাজধানীতে গ্যাস সংকট যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে বাসাবাড়িতে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

বিজ্ঞাপন

বাসাবো, মগবাজার, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠালবাগনসহ রাজধানীর একাধিক এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাসায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও কোথাও গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস পাওয়া গেলেও তা দিয়ে দৈনন্দিন রান্নার কাজ সারতে পারছেন না বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে অনেকে বাইরে থেকে রান্না করা খাবার কিনছেন, কেউ কেউ আবার বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজে এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন।

কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই। এলপিজি গ্যাসের সংকট ও লাগামছাড়া দামে নগরবাসী পড়েছেন আরও বড় বেকায়দায়। গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করার পরও রান্নার জন্য বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তাতেও মিলছে না স্বস্তি—হঠাৎ করে সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেককে বাইরে থেকে খাবার কিনেই চলতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিলিন্ডার পুরোপুরি ভরানো যাচ্ছে না। এতে ডিউটির সময় বেড়ে যাচ্ছে, অথচ আয় কমে যাচ্ছে।

এদিকে নগরবাসীর এমন দুর্ভোগের মধ্যেও গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বিবেচনায় আবাসিক খাতের আগে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী সাইদুল হাসান বলেন, প্রায়োরিটি অনুযায়ী যেখানে গ্যাসের প্রয়োজন বেশি, সেখানে সরবরাহ দেওয়ার পরই আবাসিক এলাকায় গ্যাস দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সংকট পুরোপুরি কাটছে না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি অবৈধ গ্যাস সংযোগের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, প্রত্যেক বাড়িতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা সম্ভব নয়; অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ লাইন কেটে দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ব্যবহার শুরু হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট নিরসনে বিকল্প জ্বালানির ওপর জোর দিতে হবে। আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, প্রতিবছর জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। তাই সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয় রোধে আধুনিক ও দক্ষ যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যৌক্তিক দামে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এরই মধ্যে এলপিজি গ্যাসের বাজারেও নৈরাজ্য চলছে। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হলেও বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে শীতের শুরুতেই গ্যাস সংকট নগরজীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD