জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজধানীতে ভোটকেন্দ্র দখল চেষ্টার অভিযোগ

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটকে ঘিরে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পৃথক ঘটনায় ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, অর্থ দিয়ে ভোটার প্রভাবিত করা এবং অবৈধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে দলটির কয়েকজন নেতা ও সমর্থকের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার রাতে ঢাকা-৬ আসনের বাংলাবাজার এলাকার এল জুবিলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ কেন্দ্রটিতে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে একই আসনের সূত্রাপুর এলাকায় ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগে থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিবকে আটক করা হয়। স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ঢাকা-১৬ আসনের মিরপুরের পল্লবী এলাকায় অবস্থিত মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও অনিয়মের অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর দুই পোলিং এজেন্টকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) ও রাইহান হোসেন (২৩)।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, তারা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। বিষয়টি জানাজানি হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
রায়ে প্রত্যেককে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া একই কেন্দ্রের পোলিং অফিসার মোসা. সুমনা ইসলামকে দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








