Logo

তেল কম দেওয়ায় পিস্তল উঁচিয়ে পাম্প কর্মচারীকে হুমকি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মার্চ, ২০২৬, ২১:৪৪
তেল কম দেওয়ায় পিস্তল উঁচিয়ে পাম্প কর্মচারীকে হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেল চাহিদা অনুযায়ী না দেওয়ায় পিস্তল বের করে পাম্প কর্মচারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৈয়দ মাহমুদুল ইলা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৩ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ লাইনের মধ্যে তিনি নিয়ম ভেঙে আগে তেল নিতে আসেন। তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় মানবিক কারণে তাকে ১,৫০০ টাকার তেল দেওয়া হয়। তবে তিনি সরকারি নির্দেশনার বাইরে অতিরিক্ত তেল দাবি করেন। পাম্প কর্মীরা বাড়তি তেল দিতে অস্বীকার করলে তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করে হুমকি দেন এবং পরে চলে যান।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তেল নেওয়ার পর মাহমুদুল ইলা পাম্প কর্মচারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করে কর্মচারীর দিকে তেড়ে যান। এই সময় সেখানে উপস্থিত লোকজন জড়ো হয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

পাম্প সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন যে তার স্ত্রী অসুস্থ। কর্মীরা তাকে ম্যানেজারের অনুমতি নিতে বলেন। ম্যানেজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে ১,৫০০ টাকার তেল দেওয়ার অনুমতি দেন।

ঘটনার বিষয়ে সৈয়দ মাহমুদুল ইলা দাবি করেছেন, সকালে তার স্ত্রীর চোখের অপারেশন হয়েছে এবং দীর্ঘ দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি ২,০০০ টাকার তেল চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে আমাকে ধাক্কা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তখন আমি বৈধ পিস্তল বের করে ভয় দেখাই। পরে পাশে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যরা এসে বিষয়টি দেখেন এবং অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই করে আমাকে ছেড়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি সিসিটিভি ফুটেজে ধাক্কা দেখানো না হওয়ার বিষয়ে দাবি করেন, ফুটেজটি কেটে ছোট করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা জানান, তারা বিষয়টি জানেন। কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন এবং অস্ত্রের লাইসেন্স দেখার পর তাকে তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে অভিযুক্তের অস্ত্র থানায় জমা রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশন কর্মীরা আতঙ্কিত থাকলেও, সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বেড়েছে, যেখানে নিরাপত্তা এবং নিয়মের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD